অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গত ১১ মে শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪২ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালের জুনে ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। ফলে জুলাই-জানুয়ারি এ ১০ মাসে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২০১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যেখানে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।
এবার আগামী বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকে বড় অংকের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাত থেকে ঋণ নেয়া হতে পারে ৩৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা চলতি বাজেটের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে দুর্বলতার কারণেই বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণ নিতে হচ্ছে। তাই ঋণ নির্ভরশীলতা কমাতে হলে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটের আকার হতে পারে ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০ কোটি টাকা। প্রতি বছরের মতো এবারও বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বিশাল এই ঘাটতি পূরণ করা হবে অভ্যন্তরীণ উৎস যেমন ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও বিদেশি উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়া ছাড়াও সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বিদেশি সহায়তা থেকে ৩০ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
ঋণ নিয়ে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে জানতে চাইলে আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য দরকার প্রচুর বিনিয়োগ। এর জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে যে পরিমাণ অর্থ জোগান দেয়া প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে পারছে না সরকার। সে জন্যই সরকার ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।’
অর্থনীতিবিদরা জানান, ব্যাংক থেকে সরকার মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। এই প্রবণতা মূল্যস্ফীতিও উসকে দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুদ বাবদ ব্যয় এখন বাজেটের সর্বোচ্চ একক খাত। এটি মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ। এই ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে চাপ বাড়ছে বাজেটে। সাধারণত বাজেটে আয়-ব্যয়ে পার্থক্য বা ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়। আইএমএফও চায় বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে থাকুক।
সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ ঋণের পাশাপাশি বিদেশি সাহায্যের বিপরীতেও সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে বিদেশি ঋণের সুদ তুলনামূলক কম। তাই অর্থনীতিবিদরা বিদেশি ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করেন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব সম্পদ আহরণের সুযোগ কম। তাই দাতাদের কাছ থেকে নমনীয় শর্তে ঋণ নিলে তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।’

