আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিগত কয়েক বছরে যে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ঘটেছে দক্ষিণ ইউরোপে, সেখান থেকে ক্রমে পুরো ইউরোপে; তাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাবনা উত্থাপন করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভেতর থেকে কোটাভিত্তিতে আলাদা করা হবে রাজনৈতিক আশ্রয় যারা চাইছে তাদের পরিচয়। এরপর পরিস্থিতিবিচারে উপযুক্ত দেশসমূহে সুষমভাবে বণ্টন করে দেয়া হবে- এমনটাই জানা গেছে এখনও অব্দি। তবে বড় ধরনের বিতর্ক হয়তো অপেক্ষা করে আছে আশু এ প্রস্তাবনার বিপরীতে। কারণ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদেরও প্রশ্নাতীতভাবে স্থান দিতে সম্মত নয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশ। এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় ৪০,০০০ যারা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে। সংখ্যাটি বিপুল, নিঃসন্দেহে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর বোঝা ইউরোপের দেশগুলো বইবে কিনা, সেটিই আভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণের বড় ইস্যু। ইতোমধ্যে যে সমস্ত দেশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের (তা সে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীই হোক কি কাজপ্রার্থী) আশ্রয় দিতে অনেকটাই অসম্মতি প্রকাশ করেছে তাদের ভেতর রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, স্লোভাকিয়া এবং এস্তোনিয়া। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কোটায় বিভাজিত করে অভিবাসনমূলক আশ্রয় নিশ্চিত করার এ প্রস্তাবনার সপক্ষে নিজেদের এগিয়ে রেখেছে যুক্তরাজ্য। গত মাসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকারী ২০,০০০ মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি সেবামূলক প্রকল্প আরম্ভ করেছে। নতুন করে ৪০,০০০ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থনাকারীকে আশ্রয় দেয়ার উদ্যোগটি ঐ সেবামূলক কাজের একটি বর্ধিত অংশ হিসেবেই বিবেচ্য বলে জানা যায়। আজ বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নীতিমালা ও অনুমোদিত অভিবাসীদের সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশিত হবে। প্রস্তাবনার শিরোনাম হবে European Agenda on Migration। শুধুমাত্র অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পুনর্বাসনই নয়, এখানে আরও আলোচিত হবে ভবিষ্যত অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ঠেকাতে সামরিক বিশেষায়িত শক্তি কতটুকু সক্ষমতার সঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে, এটিও।

