আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আল-আনবার প্রদেশ থেকে ইসলামিক স্টেটকে উৎখাত করতে মঙ্গলবার থেকেই অভিযান পরিচালনা আরম্ভ করেছে ইরাকী সেনাবাহিনী। এ তথ্য জানিয়েছে শিয়া স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী আল হাসিদ আল শাবি- এর মুখপাত্র। সর্বশেষ তথ্য- বুধবার ইরাকের ফালুজায় ইরাকী সেনাবাহিনীর যাত্রাপথে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসলামিম স্টেট। এ অভিযানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রণকৌশল নির্ধারণ করতে চায় ইরাকী বাহিনী। এখনও পর্যন্ত গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনীর মূল অংশের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক শিয়াবাহিনী একীভূত হয়ে রামাদির দিকে অগ্রসর হয়েছে। সালাউদ্দিন প্রদেশ থেকে দক্ষিণের পথে যাত্রা করেছে তারা। আল-আনবার পুনর্দখলের প্রথম পদক্ষেপ হবে রামাদিতে পুনরায় ইরাকী নিয়মিত বাহিনীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা। যদিও একবার ‘পিঠটান’ দেয়ার পর পুনরাধিপত্য বিস্তার কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন কুশলীরা, কেননা আইএস ইতোমধ্যে রামাদিতে নিজেদের অবস্থান দ্রুততম সময়ে গুছিয়ে এনেছে। ইরাকী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে পরষ্পরবিরোধী বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী রামাদির কিছু অংশ ইতোমধ্যেই ইরাকী বাহিনী করায়ত্ব হয়েছে। রামাদির পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে এ তথ্য দেয়া হচ্ছে। তবে ইরাকী বাহিনী মঙ্গলবারের সংঘর্ষে দক্ষিণ ও পশ্চিম রামাদিতে আইএস-এর সঙ্গে একরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল বলে জানা যায়। এমনকি আইএসএর রসদও একাধিক স্থানে আটকে দিতে সমর্থ হয়। আইএস এর অধিকার থেকে আল-আনবারকে মুক্ত করার পথে আভ্যন্তরীণ একটি বিশেষ দিক ভাবাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব রাষ্ট্রগুলোকে। পুনরুদ্ধার কর্মকাণ্ডের অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে আছে বিশাল শিয়াগোষ্ঠী। তাদের রসদ যুগিয়ে থাকে ইরান। এবং রণকৌশলগত দিক থেকেও ওরা ইরানের আজ্ঞাবাহী। ইরাকী প্রশাসনের ভীতির জায়গাটি হচ্ছে ঐ শিয়াগোষ্ঠী আইএস দূর করার সঙ্গে সঙ্গে না ইরানের আধিপত্য বিস্তারে ব্রত হয়ে পড়ে ইরাকী ভূখণ্ডে। দুই প্রতিবেশীর দীর্ঘ অবিশ্বাসী অবস্থানের কারণে এ শঙ্কা। এদিকে আইএস এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত যুদ্ধে ইরাকের দুর্বল নীতির সমালোচনা করেছেন ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফ্যাবিও, তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া সামরিক সমাধান অর্থহীন।’ তার মতানুসারে ইরাক রাজনৈতিক সমাধানে সমস্যা দূরীকরণে যথেষ্ট অপরিপক্ব। সুতরাং আদপে এ সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে কিনা সে ব্যাপারে তিনি সন্দিহান। সোমবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল এবাদি আইএস বিতাড়নে এতোটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বলেন, ‘কয়েকদিনের মাত্র ব্যাপার!’ ইরাকী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি অস্বীকার করেন। জানা যায় রামাদিতে ১৫০০ সেনা মজুদ ছিল; এ সময় মাত্র ১৫০ আইএস সেনারা মুখোমুখি হয়ে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেয় ঐ বিপুল সংখ্যক সেনা। বিষয়টি নিয়ে একেক ব্যক্তিত্ব একেকরকম তথ্য দিয়ে থাকলেও মূল বিষয়টি এর খুব কাছাকাছি সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, ইরাকী বাহিনীর আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়ার কোনো ইচ্ছেই দেখা যায়নি। হায়দার আল এবাদি বলেন, এটি সত্য নয়, তারা আইএস-এর গেরিলা পদ্ধতি দেখে কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছিল মাত্র। কোনো প্রকার অসততা তাদের মধ্যে ছিল না।

