আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাজধানী কাবুলে এক আফগান মন্ত্রীর মালিকাধীন এক রেস্টহাউসে মঙ্গলবার গভীর রাতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে চার হামলাকারী নিহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই হেলমন্দ প্রদেশের তিনটি জেলার পুলিশ দপ্তরে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০ সেনা এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিল তালেবান যোদ্ধারা।
আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলা সম্পর্কে জানিয়েছেন, জঙ্গিরা রকেট চালিত গ্রানেড লাঞ্চার এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ‘হিটাল’ গেস্টহাউজে হামলা চালিয়েছিল। পরে চার হামলাকারী সবাই নিহত হয়েছে। এতে আর কেউ হতাহত হয়নি।
হামলার পর বুধবার এক টুইটার বার্তায় উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াজির আকবর খান জানিয়েছেন,‘চার হামলাকারী একটি রকেট লাঞ্চার, ৩টি একে-৪৭ রাইফেল এবং একটি গ্রানেড লাঞ্চার নিয়ে কাবুলের ওয়াজির আকবর খান এলাকায় অবস্থিত ওই রেস্টহাউসে হামলা চালায়। এতে চার হামলাকারীর সবাই নিহত হয়েছেন।’
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবিসি’কে জানিয়েছে, রাব্বানি গেস্টহাউস(আগের নাম হিতাল) লক্ষ্য করে তারা ওই হামলা চালিয়েছিল। ২০০৯ সালেও একবার ওই রেস্টহাউসে হামলা চালিয়েছিল তালেবান জঙ্গিরা।
ওই হামলার পরই আফগানিস্তানের বিখ্যাত রাব্বানি পরিবার এটি কিনে নেয় এবং এর নাম পাল্টে দেয়া হয়। এই গেস্টহাউসটিতে আফগানিস্তানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন রাব্বানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রাব্বানিরও মালিকানা রয়েছে।
এর আগে কাবুলের এক পুলিশ মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা প্রথমে গেস্টহাউসের পিছনের দিকের গাছের আড়ালে অবস্থান নিয়েছিল।
রাব্বানি গেস্টহাউসের ম্যানেজার এএফপিকে জানিয়েছেন, হোটেলের অতিথিরা নিরাপদ এবং অক্ষত আছেন। ম্যানেজার আরো জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত সুরক্ষিত হোটেল। একটি/দুটি বিস্ফোরণের পরই হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। ফলে হামলাকারীদের পক্ষে ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

