নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১৬ জুন জামায়াত নেতা মুজাহিদের আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে। প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
এর আগে আপলি বিভাগে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষ করা হয়। আসামিপক্ষ মুজাহিদের পক্ষে আদালতে দুই দিন যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং একটি লিখিত আর্গুমেন্ট জমা দেন। রাষ্ট্রপক্ষও দুইদিন মুজাহিদের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং ২৫ পৃষ্ঠার একটি লিখিত আর্গুমেমন্ট জমা দেন।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আগামী ১৬ জুন মুজাহিদের রায় ঘোষণা করবেন মর্মে দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।
আদালতে মুজাহিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। অপরিদিকে মুজাহিদের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে এক, ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। তিন নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এই দুটি অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দেয়া হয়েছে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

