ঢাকাTuesday , 26 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একটু ভালো থাকার আশায় অজানার পথে

Link Copied!

manঝিনাইদহ প্রতিনিধি : পানিপথে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া দেশের ১৫টি জেলার মানুষের মধ্যে ঝিনাইদহে প্রায় শতাধিক যুবক ও মাঝ বয়সী মানুষ রয়েছেন। পরিবার-পরিজন দিয়ে একটু স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার আশায় অবৈধভাবে বিদেশ গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। অনেকেই হইতো মারা গেছেন। যার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের তারিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্ত্রী ও দুই সন্তান ছোট্ট একটি ঘরের বারান্দায় বসে আছে। স্বামীর খোঁজ না পেয়ে অশ্রু শূন্য স্ত্রী রামেলা খাতুন। কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। আর ফেরেননি। অভাবের সংসারে অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলতো তাদের সংসার। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর অভার আরও জাপ্টে ধরেছে পরিবারে।
শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর গ্রামের মিলন হোসেনের বাড়িতে একই চিত্র। বাবা আবুল হোসেন বাকরুদ্ধ প্রায়। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১৫ আগস্ট ঢাকায় চাকরি করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে চট্টগ্রাম থেকে ফোন দেন বাড়িতে। জানান পানি পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা। এর কয়েকদিন পর বাবাকে ফোন করে জানায় তিনি থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গলে আটকা পড়ে আছেন। তারপর আর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।অভিবাসীউমেদপুর ইউনিয়নের ব্রাহিমপুর ও লক্ষণদিয়া গ্রামের বদর মণ্ডলের ছেলে কামরুল ও লক্ষণদিয়া গ্রামের ইবাদতের ছেলে টিপু ভালো ভাবে পৌঁছালেও এখন পযর্ন্ত মনিরুদ্দিন শেখের ছেলে সাবু (৩৫), মৃত আদিল মোল্যার ছেলে মতলেব ও বকুলের ছেলে তরুণের। নিজের ও পরিবারের অভাব মেটাতে গিয়ে অনেকের অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার গাড়ামাড়া গ্রামের লাল চান, নাজমুল হোসেন, মাসুদ রানা, আলমগীর হোসেন, ওলিয়ার রহমান, ফরিদ হোসেন, রিপন আলী ও বাক্কা আলী পানি পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এর পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। রামচন্দ্রপুর গ্রামের জগত আলী, হামিদ হোসেন, সোনারদাড়ি গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও ড্যাফলবাড়িয়া গ্রামের শামসুল ও বিলাল পানি পথে বিদেশ যাওয়ার পথে একইভাবে নিখোঁজ হন। গিলাবাড়ীয়া গ্রামের লিংকন, রাকিবুল ইসলাম, সোহাগ আলী, রকি হোসেন, আব্দুর রশিদ, আনারুল, আল আমিন, লিটন হোসেন থাইল্যান্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের ইমরান, তারিক ও মুদাচ্ছের পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে দালালদের খপ্পড়ে পরে উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরি করার আশায় পানি পথে থাইল্যান্ড রওয়া দেয়। যারা আজও নিখোঁজ রয়েছেন। সড়াবাড়ীয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আলমগীর হোসেন, আক্কাস মণ্ডলের ছেলে খাইরুল, শহিদ মণ্ডলের ছেলে আজাদ, আনসার শেখের ছেলে বকুল শেখ ও রহমান কাজীর ছেলে হাশেমের কোনো সংবাদ পাচ্ছেন না তার পরিবার।মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের এক সন্তানের জনক নিলুকে ৬ মাস পূর্বে যশোর জেলার ঝিকড়গাছা উপজেলার আদমপুর গ্রামের মানবপাচারকারী মনির হোসেনের সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকা চুক্তি করে সাগরপথে মালযেশিয়া যায়। ৬ মাসের মধ্যে তার কোনো খোঁজ বা মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। তিনি বেঁচে নেই ভেবে আড়াই বছরের শিশু ছেলে সিফাতকে নিয়ে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেছেন।
একইভাবে দুই মাস আগে বড়বাড়ী গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে উজ্জল, মনির উদ্দিন মনু মিয়ার ছেলে মোস্তফা, সায়েদ আলীর ছেলে উজ্জল ওরফে ময়না, আব্দুল মজিদের ছেলে রাজিবকে চৌগাছা উপজেলার জগদিসপুর গ্রামের দালাল ওহেদ ৪জনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা করে চুক্তি করে। তাদেরকে প্রথমে যশোর তারপর চিটাংগাং পরে কক্সবাজার নিয়ে যায় । বর্তমানে তাদেরও কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের বাবা আত্মিয় স্বজন ও প্রতিবেশিরা জানান।
এদিকে জাগুসা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নুর ইসলাম, একই গ্রামের হোসেনের ছেলে শরিফুর, মফিজউদ্দিনের ছেলে মোবারক, নূর মোহাম্মদের ছেলে জোবায়েদ ও নিখোঁজ রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মল্লিকপু গ্রামের মগরেব আলী, আশিকুর রহমান, ইমাদুল হক, ফিরোজ আলী ও আক্কাস আলী নামে ৫ জন যুবক একই গ্রামের দেলোয়ার ৩ মাস আগে ৫ লাখ টাকায় মালয়েশিয়া যেতে চিটাগাং পাঠায়। সেখানে ২য় দালাল আজিজ জাহাজে নিয়ে জড়ো করে। পরিবারের লোকজনের নিকট থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে জাহাজে করে নদী পথে পাঠিয়ে দেয়। ১ মাস পর পাঠানো যুবকদের মধ্যে আক্কাস নামে যুবকটি মালয়েশিয়া পৌঁছে বাড়িতে খবর পাঠালেও বাকি ৪ জনের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অভিবাসীনিখোঁজ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ পরিবারের লোক বুঝতেই পারেনি যে তারা বিদেশ চলে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েকদিন পর নদীপথে রওনা হওয়ার আগ মুহূর্তে তারা অজানা নাম্বার থেকে ফোন করে বলে আমি চিটাগাং আছি। পানি পথে জাহাজে উঠে মালায়েশিয়া চলে যাচ্ছি। জাহাজে বা নৌকায় উঠার পর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি অনেকের।
মানবপাচারকারী ধরতে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে ৩টি। রাগে ক্ষোভে অনেকে পাচারকারীদের বাড়িতে হামলাও করেছে। অজানা এই আতঙ্ক কতদিন আর বয়ে বেড়াতে হবে এখন সেটা নিয়ে চিন্তিত নিখোঁজদের স্বজনরা।