নাটোর প্রতিনিধি : চলছে ট্রেন, ব্যস্ত স্টেশন কিন্তু সেখানে নেই কোনো স্টেশন মাস্টার। তাই সিগন্যাল ছাড়াই চলছে ট্রেন। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যিকারের চিত্র পাকশি অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত নাটোরের আজিমনগর রেলস্টেশনের।
প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক ট্রেন, মাল ট্রেন ও মোটর ট্রলি চলাচল করে এ স্টেশন দিয়ে। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগের সব ট্রেন এ স্টেশনের উপর দিয়ে চলাচল করে। রাজশাহী-ঢাকা, রাজশাহী-খুলনা, ঢাকা-দিনাজপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন চলাচল করে। স্টেশনের অদূরেই পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে ব্যস্ততম একটি রেলগেট। এ গেট দিয়ে প্রতি মিনিটে গড়ে ৪০-৫০টি যান বহন চলাচল করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ স্টেশনে ৩ জন মাস্টার, ৩ জন পয়েন্টসম্যান, ১ জন পোর্টার ও ১ জন পরিষ্কারকারকের পোস্ট থাকলেও সেখানে বর্তমানে ২ জন পয়েন্টসম্যান ও ১ জন পোর্টার দিয়ে চলছে কার্যক্রম। বাকি পদগুলোও শূন্য রয়েছে।
কয়েকদিন আগে স্টেশনের একমাত্র মাস্টারকেও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। ফলে রেলের সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ আধুনিক অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে রেলগেটের অটোলক ব্যবস্থা এখন এনালগে পরিণত হয়েছে। ট্রেনের শব্দ শুনে ও মাথা দেখে রেলগেট বন্ধ হচ্ছে আর ট্রেন পার হলে খোলা হচ্ছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় এখানে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশি বিভাগীয় অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আজিমনগর রেল স্টেশনের ৩ জন স্টেশন মাস্টারের মধ্যে ১ জন মাস্টার প্রায় ২ বছর আগে অবসরে চলে যাওয়ায় মাত্র ২ জন মাস্টার দিয়েই এ পর্যন্ত কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু এই দুইজনের একজন আফজাল হোসেন মুলাডুলি স্টেশনে ও অন্যজন মারফিন হাসানকে মাধনগর স্টেশনে বদলি করার ফলে গত ২০ মে থেকে আজিমনগর স্টেশন মাস্টার শূন্য। অফিসিয়াল হিসাবে কার্যত এ স্টেশনকে ক্লোজ করা হয়েছে। এর ফলে ২০ মে থেকে জ্বলছে না সিগনাল বাতি। সিগনাল ছাড়াই চলছে ট্রেন। যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এ ব্যাপারে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ জানান, লালপুর-বাগাতিপাড়াবাসীর অভিভাবক হিসেবে এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জেনেছি, তারা আমাকে জানিয়েছে ট্রেন সমূহ এখন নির্ধারিত সময়ে চলছে, কাজেই স্টেশনে টিকিট বিক্রির একজন ও গেটম্যান হিসেবে একজন ছাড়া বাকি লোকের প্রয়োজন নেই। গেটম্যানের কাজের সুবিধার্থে ট্রেনের সময়সূচি সরবরাহসহ তাদের সর্বদা সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
আজিমনগর রেল গেটের গেটম্যান আশরাফ আলী জানান, সিগনাল বাতি না জ্বলায় গেটে খুবই সমস্যা হচ্ছে। আগে সিগনাল দেখে গেট বন্ধ হতো কিন্তু এখন ট্রেনের দিকে চেয়ে থাকতে হচ্ছে। আর দ্রুতগামী ট্রেনের ক্ষেত্রে এ সমস্য আরও প্রকট। গেট বন্ধ করতে ১-২ মিনিট সময় লাগে কিন্তু ট্রেন দেখা যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেল গেটে চলে আসে।
আজিমনগর স্টেশনের পয়েন্টসম্যান আলমগীর হোসেন জানান, স্টেশন মাস্টার না থাকায় কার্যত স্টেশন বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র স্টেশন দেখ-ভাল করার জন্য ও টিকেট বিক্রির জন্য ২জন পয়েন্টসম্যান ও ১জন পোর্টার কর্মরত আছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক বাবুল আকতার বলেন, ‘দেশের রেল স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যস্ত এ স্টেশন থেকে রেল মাস্টার ক্লোজ করে নেয়াটা আমরা কিছুতেই মানতে পারছি না। এতে করে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা। কারণ স্টেশন সংলগ্ন একমাত্র রেল লাইনটির উপর দিয়েই এ উপজেলার লালপুর গোপালপুর হয়ে বনপাড়া ও নাটোরের চলাচলকারী যানবাহনগুলো চলাফেরা করে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশি বিভাগীয় ডি টিও (ডিভিশনাল ট্রান্সপুটেশন অফিসার) শওকত জামান জানান, স্টেশন মাস্টারের অভাবে পাকশি অঞ্চলে ৫৯টি স্টেশন বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় সাবধানতার সঙ্গে আব্দুলপুর ও ঈশ্বরদীর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে আজিমনগর স্টেশনে ট্রেন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্টেশন মাস্টারের চাহিদা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ হলে এ সমস্যা দূর হবে।’
কবে নাগাদ এ সমস্যা মিটবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ ব্যাপার তাই সহসাই এ সমস্যা সমাধানের কোনো সম্ভাবনা নেই।

