আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সাগরে ভাসমান অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধারের ঘোষণা দিলেও তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ড। সোমবার থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান ওচা বলেছেন, ‘তাদেরকে (আভিবাসন প্রত্যাশীদের) থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হতে পারে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হবে। এ ব্যাপারে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে থাইল্যান্ডের সঙ্খলায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীদের ৩২টি কবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপরই আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে থাইল্যান্ড। ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়শিয়া উপকূলে পাচারকারীরা অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকায় রেখে ফেলে চলে যায়। পরবর্তীতে দেশ দুটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে। আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলির মতে, এখনও সাগরে ভাসমান অবস্থায় আছে প্রায় সাত হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী। গত সপ্তাহে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়শিয়া আর কোন অভিবাসন প্রত্যাশীকে সাগর থেকে উদ্ধার করবে না বলে ঘোষণা দেয়। তবে আর্ন্তজাতিক চাপের মুখে প্রথমে ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়শিয়া এবং পরে থাইল্যান্ড তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবে থাই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড কেবল উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের তৃতীয় কোন দেশে পৌছানোর আগ পর্যন্ত মানবিক সহায়তা দেবে।
সোমবার থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান জানিয়েছেন. সাগরে ভাসা বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের পর তাদের চিকিৎসার জন্য পুলিশ ও চিকিৎসকসহ ভাসমান নৌঘাঁটিসহ একটি জাহাজ পাঠানো হচ্ছে। এইচটিএমএস অং থং নামে সাড়ে সাত হাজার টনের ওই বিশাল জাহাজটিতে ৩৯০ ক্রু, রোগী রাখার স্থান, অস্ত্রোপচার (ছোট) ও দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার মতো কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের কোন নৌকার খোঁজ পাওয়া গেলে নৌবাহিনী তাদের সহায়তার জন্য এই বিশাল জাহাজে নিয়ে আসবে। পরে থাইল্যান্ড নৌকার এসব লোকজনকে থাইল্যান্ড ও মালেয়শিয়া সাময়িক আশ্রয় শিবিরে পৌছে দিবে।
জেনারেল প্রায়ুত চ্যান আরও বলেন, থাই জলসীমায় যদি কাউকে অসুস্থ কিংবা আহত অবস্থায় পাওয়া যায় তাহলে তাদের থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হতে পারে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অনু্প্রবেশের অভিযোগ আনা হবে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশী নৌকার অনুসন্ধানে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নৌকার খোঁজে বিমান পাঠাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণায় স্বাগত জানিয়েছেন ওচা। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের সহযোগিতাকে স্বাগতম জানাবে থাইল্যান্ড। তবে তাদেরকে অবশ্যই থাইল্যান্ডের নেতৃত্বে কাজ করতে হবে।

