ঢাকাTuesday , 26 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীর্ষ পদে সব অনির্বাচিতরা, ক্ষোভ হইচই উত্তেজনা

Link Copied!

FBCCI-Logoঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : শেষ হলো ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নির্বাচন। সোমবার সভাপতি, সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এখন শুধু গেজেট হওয়ার পালা।
কিন্তু তিনটি পদের কোনটিতেই সরাসরি নির্বাচিত পরিচালকদের স্থান না পাওয়া এবং তাদের ভোট না নেয়ায় কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে সহ-সভাপতি পদের নাম ঘোষণার সময়েই। এসময় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা চিৎকার করতে থাকেন, ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। তবে অদৃশ্য ইশারায় প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না।
নিয়মানুযায়ী এফবিসিসিআই পর্ষদ ৫২ জন পরিচালক নিয়ে গঠিত হবে। এর মধ্যে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সরাসরি নির্বাচিত ৩২ জন পরিচালক। এর মধ্যে চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৬ জন এবং অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৬ জন পরিচালক। আর বাকি ২০ জন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে মনোনীত পরিচালক।
শীর্ষ ৩ পদের মধ্যে সভাপতি একবার অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে হলে পরের নির্বাচনে চেম্বার গ্রুপ থেকে হবে। নিয়মানুযায়ী এবার সভাপতি চেম্বার গ্রুপ থেকে, প্রথম সহ-সভাপতি অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে এবং সহ-সভাপতি চেম্বার গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ শীর্ষ ৩ পদের মধ্যে ২টি চেম্বার ও একটি পদে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু যারা এসব পদে এসেছেন তারা ব্যবসায়িদের ভোটে নির্বাচিত নন, মনোনীত পরিচালক।
নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী আশরাফ সোমবার বিকেলে ৩ শীর্ষ পদে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণার সময় বলেন, নিয়মানুযায়ী সভাপতি, প্রথম সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন ফরমে একজন পরিচালকের সমর্থনসহ আবেদন করতে হয়। যদি একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে সেখানে পরিচালকের ভোটে সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। আর যদি একাধিক প্রার্থী না পাওয়া যায় তাহলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসব পদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়। এবার শীর্ষ পদের যারা এসেছেন সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান যখন মনোনীত পরিচালকদের সহ-সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণা করছিলেন তখন ফেডারেশন বোর্ড রুমে নবনির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে হইচই শুরু হয়ে যায়। অনেকের চোখে মুখে কালো ছাপ চোখে পড়ে। কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যদের (জিবি সদস্য) মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সভাপতি পদের বিষয়ে তেমন কোনো সমালোচনা না থাকলেও অন্য দুটি পদের বিষয়ে সমালোচনা ঝড় বইতে থাকে। সাংসদ নাসিম ওসমান হইচই থামানোর জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এসময় কার্যনির্বাহিী সদস্যরা (জিবি) ধর ধর এবং ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। রাগে ক্ষোভে টেবিলে রাখা দু’একটি গ্লাসও ভাঙতে দেখা গেছে অনেককে।
এই ক্ষোভ ও হইচইয়ের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিন রাত পরিশ্রম করে ভোট চেয়েছি। ভোটাররা তাদের সমস্যার কথা জনিয়েছেন। আমরা তাদেরকে ওয়াদা করেছি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে তাদের ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো। কিন্তু আজ যাদেরকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেছে তারা তো এসবের ধারে কাছে নেই। তাদেরকে এফবিসিসিআইয়ের ধারে কাছে দেখা যায় না। তারা কীভাবে সাধারণ ব্যবসায়িদের ব্যথা বুঝবেন, কষ্ট বুঝবেন আমাদের জানা নাই। তারা ওরে এসে জুড়ে বসেছে। তাই এসব পদে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানাই।’
তারা আরও বলেন, সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তার মর্যাদা তো আর রক্ষা করা গেলো না। যেকোনো একটি গ্রুপ থেকে যদি একজন সহ-সভাপতি করা হতো তাহলে অনন্ত ভোটাদের অধিকার নিশ্চিত হতো।
জানা গেছে, এফবিসিসিআইন নিবাচনে মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন পরিষদ প্যানেলের ডেপুটি লিডারের দায়িত্ব পালন করেছেন দুই জন। এদের একজন চেম্বার গ্রুপ ও অপরজন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ডেপুটি লিডারের দায়িত্বে কাজ করেন। তাদের কেউই সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হননি। এর মধ্যে দুইজন কার্যনির্বাহী পরিষদের তথা ব্যবসায়ি সমাজের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। একই সঙ্গে তারা একাধিবার এফবিসিসিসিআই নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন। তারাও সহ-সভাপতি পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন পরিষদের অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ডেপুটি লিডার বর্তমান সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে বিপুল ভোট পেয়ে পরিচালক পদে প্রথম হয়েছেন। এ থেকে বুঝা যায় তিনি ব্যবসায়িদের নিকট কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। আর এ কারণে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে তাকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করার দাবি ছিল ভোটার তথা পরিচালকদের। এছাড়া গ্রে অ্যান্ড ফিনিশড ফেব্রিক্স মিলস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের হারুন-অর-রশিদ। তিনি একাধিকবার পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছে। বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান, বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং অ্যাসোসিয়েশনের আবু মোতালেবের নামও সহ-সভাপতি পদের বিষয়ে পরিচালক তথা ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় ছিল। কিন্তু এভাবে মনোনীত পরিচালকদের প্রথম সহ-সভাপতি নির্বাচিত করার কারণে ভোটারা হতাশা ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে এফবিসিসিআই কার্যনিবাহী পরিষদের সদস্য (জিবি মেম্বার) রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা ভোট দিয়েছি যারা আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধান করবে। কিন্তু যারা আমাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে তারা শীর্ষ পদের একটিও পেলো না। অথচ যারা ভোটার তথা ব্যবসায়িদের কোনো খবর নেয় না তারা এসব পদে নির্বাচিত হয়েছেন। যা খুবই লজ্জাজনক, দুঃখজনক। অত্যন্ত একটি পদের নির্বাচিতদের মধ্য থেকে দেয়া উচিৎ ছিল।’
এদিকে চেম্বার গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত পরিচালক গোপালগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শেখ ফজলে ফাহিম, কিশোরগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি কানাডা থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি ধারী গাজী গোলাম আসরিয়া। তারা তরুণ প্রজন্মের ব্যবসায়ি প্রতিনিধি। তাই তরুণ প্রজন্মের ব্যবসায়িদের দাবি ছিল তারা সহ-সভাপদি পদে নির্বাচিত হোক। তবে তারা এফবিসিসিআইর প্রথম নির্বাচিত পরিচালক বিধায় এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। তবে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লায়নিজমের সর্বোচ্চ ‘মেলভিন জোন্স‘ পদক প্রাপ্ত ব্যবসায়ি মো. বজলুর রহমান একাধিকবার নির্বাচিত পরিচালক। এ কারণে তার নাম বরাবরের মতো আলোচনায় ছিল। এছাড়া ব্যবসায়ি সমাজের সকলের বন্ধু হিসেবে পরিচিত তিনি। সেই সঙ্গে তিনি উন্নয়ন পরিষদের ডেপুটি লিডার ছিলেন। এসব আলোচিত ব্যবসায়ি প্রতিনিধিদের কেউ সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হননি।
এ সম্পর্কে রাঙামাটি চেম্বারের বেলাল আহমেদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হচ্ছে নির্বাচন। গণতান্ত্রিক উপায়ে, ভোটের মাধ্যমে পরিচালক পদে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের মধ্য থেকে সভাপতি ছাড়া বাকি দুই পদের প্রার্থী থাকা উচিৎ ছিল। কিন্তু নির্বাচিতদের এসব পদে না দিয়ে গণতন্ত্রকে অপমান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত না হওয়ায় ব্যবসায়ি নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।’
এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘আমি ২০০২ সালে এসব পদে সরাসরি নির্বাচনের জন্য একদিন অনশন করেছিলাম। তবুও এসব পদে সরাসরি নির্বাচন হয়নি। সরকার যে পলিসি দেয় সে পলিসিতেই যেতে হয়। তবে আগামীতে সরাসরি নির্বাচনের জন্য আবারও আলোচনা করবো।’
উল্লেখ্য, এফবিসিসিআই ২০১৫-১৭ মেয়াদের পরিচালক পদে নির্বাচন ২৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমাদ নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন পরিষদ প্যানেল।এ প্যানেল থেকে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে মোট ৩২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে ২৫ জন বিজয়ী হয়েছেন; যাদের ১২ জন হয়েছেন চেম্বার গ্রুপ থেকে এবং ১৩ জন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে এফবিসিআইয়ের বর্তমান সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা ব্যবসায়ী পরিষদের চেম্বার গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন এবং মোয়াজ্জেম-এরতেজা-শাফকাত হায়দার নেতৃত্বাধীন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ থেকে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আর সোমবার সভাপতি, প্রথম সহ সভাপতি এবং সহ সভাপতি পদে নির্বাচিতদের নাম ঘোষনা করেছে নির্বাচিত করেছে নির্বাচনী বোর্ড।