ঢাকাSunday , 24 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রিপারেটরি স্কুলের ধর্ষণকাণ্ড, প্রকৃত ঘটনা

Link Copied!

mohammadpurনিজস্ব প্রতিবেদক : নানা গুজবের প্রেক্ষপটেই গত ২৬ মে আন্দোলন করেছিলেন মোহাম্মদপুর প্রিপাইটেরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকেরা। প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষিত এবং পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীর ধর্ষণের পর মৃত্যু- এ দুই খবরে আন্দোলনে নামেন তারা। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বরখাস্ত করলেও সেসময় অভিভাবকদের হাতে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত ও কয়েকজন শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তখন অনেক অভিভাবকও এ আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড়ান। বহিরাগতরা এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করারও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়।
সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকৃত ঘটনা হলো: পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর ধর্ষণ ও মৃত্যুর বিষয়টি পুরোটাই গুজব হলেও প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীর ঘটনার আংশিক সত্যতা রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)- দুটোর তদন্তেই বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীর বাবাও জানিয়েছেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি সত্য।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ মে, ক্লাসের ফাঁকে খেলছিল মেয়েটি। ক্লাস শুরুর ঘণ্টা বাজার পরেই মেয়েটি রওনা দিয়েছিল ক্লাসরুমের দিকে। ঠিক সেই সময়ই পেছন থেকে স্কুলের এক কর্মচারী তার মুখ চেপে ধরে তাকে ক্যান্টিনের পাশের কোণার কক্ষে নিয়ে যায়। প্রথমেই শরীরে হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করে মেয়েটির নাম। এক ফাঁকে মেয়েটি ছুটে বাইরে চলে আসে।
সামাজিক অবস্থানের কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়েটির বাবা বলেন, ‘ঘটনার পরের দিন (৬ মে) আমার মেয়ের একজন বান্ধবী প্রথমে আমাদের কাছে ঘটনাটি জানায়। পরে ওর সঙ্গে এবং ওর বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি জেনেছি। স্কুলের একজন কর্মচারী আমার মেয়ের মুখ চেপে ধরে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যায়। প্রথমে তার নাম জিজ্ঞেস করে। ছোট বাচ্চা হওয়ায়, ও ভয় পেয়ে দৌড়ে বাইরে চলে আসে। যদি আমার মেয়ে দৌড়ে না আসতে পারতো তাহলে ওর সর্বোচ্চ ক্ষতি হতো।’
তাহলে কেনো বারবার যৌন হয়রানির প্রসঙ্গটি উঠে আসছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু আপনাকে পুরো ঘটনাটিই খুলে বলেছি। আর আমার মেয়েকে কোনো যৌন হয়রানি করা হয়নি। এটা মিডিয়া ও আন্দোলনকারীরা ভুল বুঝছেন। আমি বুঝতে পারছি না কেন আমার মেয়েকেই ভিকটিম করা হলো। আমি এখন আমার নিয়ে টেনশনে আছি।’
ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো চাপ দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে ঘটনা আড়াল করার জন্য কোনো প্রকার চাপ দেওয়া হয়নি। ভয়ভীতিও দেখানো হয়নি।’
মেয়ে ঘটনার পর স্কুলে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরদিন থেকে ও প্রতিদিনই স্কুলে গেছে। আর অনেকেই বলছে ওকে টিসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ রকম কোনো কথাই ওঠেনি।’ এখনো মেয়ের স্কুল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি কিছু ভাবছেন না বলেও জানান।
স্কুলের নানা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটাকে আমি স্বাগত জানাই। তবে যে ঘটনা আমার মেয়ের সঙ্গে হয়েছে, তেমনটি অন্যদের সঙ্গেও হতে পারে। এখানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী পড়ে। সুতরাং, সবার নিরাপত্তার দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের। আশা করি তারা বিষয়টি দেখবেন।’
এদিকে, নির্যাতিতা বাবার সঙ্গে কথা বলা শেষে এ বিষয়ে কথা হয় স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির ট্রাস্টি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ম. তামিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আগেই অবগত। আমরা তার প্রেক্ষিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম এবং তাতে মেয়ের বাবাও ছিলেন। তো আমরা সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্কুল খোলার আগে আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো বলে আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের আবেগ আমি বুঝি। কিন্তু তারা কিছু বহিরাগত লোকজনদের এনে শনিবার স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রীর উপর হাত তোলে যা অত্যন্ত নিন্দাজনক। ছাত্রীদের রক্ষার নামে যারা এমন কাজ করেছে তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার।’
অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যালয় শাখায় ১২টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, প্রতিষ্ঠানের বালিকা শাখা থেকে সব পুরুষকর্মীকে স্থানান্তর এবং ছাত্রীদের প্রতিটি বাথরুমের সামনে একজন করে আয়া নিয়োগ। এছাড়া নারী নিরাপত্তাপ্রহরী নিয়োগ ও নিয়মিত অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করাসহ অন্যান্য বিষয়ও প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ম. তামিম।
নির্যাতিতা মেয়ের বাবার বক্তব্যের প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী নাসরিন সুলতানা নামের এক অভিবাবক বলেন, ‘যেভাবেই ঘটুক না কেন, ঘটনাটা কিন্তু সত্য। ওখানে আরো বড় কিছুও হতে পারতো। আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেটা হয়নি। তবে ওই মেয়েসহ সব মেয়ের নিরাপত্তার জন্যই আমাদের এ আন্দোলন। স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একে আমি স্বাগত জানাই। কিন্তু বিশৃঙ্খলার দায় আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন তারা, এটা ঠিক না। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। এ কাজ করতে গিয়ে আমাদের যদি এখন হয়রানির শিকার হতে হয় তবে আমরা ভবিষ্যতে এমন কাজে উৎসাহ হারাবো। তবে আশা করবো এ ঘটনা থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা নেবেন।’
এদিকে, আগামী মঙ্গলবার খুলছে মোহাম্মদপুর প্রিপাইটেরি স্কুল এন্ড কলেজ। অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে ঘটনার দিন ১৬ মে তড়িঘড়ি করে গ্রীষ্মের ছুটি ঘোষণা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে স্কুল কর্তৃপক্ষ।