নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে ঢাবির শিক্ষকরাই ক্ষমতায় এনেছে। তাই শিক্ষকদের অবহেলা করলে সরকারকেই পস্তাতে হবে। আর শিক্ষকদের দাবি না মানলে সরকারের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে।’
রোববার দুপুর ১২টায় ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রস্তাবিত ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামো প্রত্যাখ্যান এবং পুনঃনির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ‘আজকে যারা নিজেদের বেতন নিজেরাই বাড়ায়, তারা একদিন আমাদের পিটিয়েছে। আমরা সরকারের পক্ষে আন্দোলন করছিলাম, তারা আমাদের ধরে জেলে দিয়েছে। আবার তারাই নিজেদের পক্ষে সবধরনের সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। শিক্ষকদের বাদ দিয়ে যদি সরকার কিছু করতে চায় তবে সরকারই নিস্তেজ হয়ে যাবে।’
‘স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর জন্য আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে’ এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষক নেতারা বলেন, ঢাবিতে দেশের সব প্রান্তিক এলাকা থেকে অস্বচ্ছল ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। যারা এধরনের কথা বলছেন, তারাও এখানকার পাতলা ডাল আর মোটা চাল খেয়ে আজকের অবস্থানে গেয়েছেন। ঢাবি না থাকলে আজকে তাদের অনেকেই শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করতে পারতেন না।
বক্তারা আরো বলেন, শিক্ষকদের গ্রেড অবনমনের জন্য দায়ী সচিবদের তিনদিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে আমরা তাদের সনদ বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার চিন্তাভাবনা করবো।
সচিবালয় ঢাবির অন্তর্ভুক্ত জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের ওইসব এলাকার ভাড়া দিতে হবে। এছাড়াও অতীতের সব টাকা-পয়সা সুদে আসলে পরিশোধ করতে হবে।
সমিতির সভাপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম মাকসুদ কামালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, সাদা দলের শিক্ষক আখতার হোসেন খান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ, ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

