নিজস্ব প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চলচ্চিত্র সংসদের কক্ষে ঢুকে সংসদের কর্মীদের বের করে দিয়ে নথিপত্র, কর্মীদের চাঁদার টাকাসহ একটি ক্যামেরা লুট করে নিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। চলচ্চিত্র সংসদের কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কক্ষটি পরে সিলগালা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রাহুল এবং শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক কেএম রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী বুধবার বেলা ১১টার দিকে চলচ্চিত্র সংসদের কক্ষে ঢুকে কর্মীদের বের করে দিয়ে নিজেদের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দাবি করে চলচ্চিত্র সংসদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কর্মীদের চাঁদার টাকাসহ ইয়াসিকা এফ৭ মডেলের একটি ক্যামেরা লুট করে নিয়ে যান। তারপর তারা কক্ষে নিজেদের তালা মেরে রেখে যায়।
সূত্র আরো জানায়, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নূর মোহাম্মদকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে হাসি ঠাট্টা করেন এবং তারপর চলচ্চিত্র সংসদের কর্মীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এ সময় ছাত্রলীগের জবি শাখার সভাপতি এফএম শরীফুল ইসলাম প্রক্টরের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জবি চলচ্চিত্র সংসদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলে উপাচার্য কক্ষটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ নেয়ার জন্য প্রক্টরিয়াল বডিকে নির্দেশ দেন।
এসব বিষয়ে পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘কে বা কারা সোসাইটির (ফিল্ম সোসাইটি) রুমে ঢুকে নিজেদের কমিটি দাবি করে সোসাইটির ক্যামেরাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যায়। আমরা তদন্তের স্বার্থে রুমটি সিলগালা করে রেখেছি।’
দোষীদের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ এসে দাবি করলেই হলো নাকি আমি সভাপতি? জড়িতদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
একই রকম কথা বলেছেন চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস পাভেল।
তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের রুমে লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচার না পাই তাহলে আমরা প্রয়োজনে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেব।’
নিজস্ব কমিটি ঘোষণা এবং চলচ্চিত্র সংসদের কাগজপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র গায়েব করার অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগ নেতা নূর মোহাম্মদ রাহুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ভাই, আমি একটা মিটিংয়ে। আপনি আমার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কথা বলেন।’
নিজেকে চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি দাবি করা রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক দাবি করা নূর রাহুল জবি ছাত্রলীগের সভাপতি এফএম শরীফুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তাই এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলামের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি স্যারদের বলেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য এবং সুরাহা করার জন্য।’
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ ২০০৯ সাল থেকে অনুমোদিত সংগঠন হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রদত্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক অবকাশ ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষটি চলচ্চিত্র সংসদ ও ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ব্যবহার করছে। ইতোমধ্যে জবি চলচ্চিত্র সংসদ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসব এবং একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে। এছাড়া জবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি কয়েকটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

