বিনোদন ডেস্ক : মুক্তির পর থেকে বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের মাতিয়ে চলেছে ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’। গত ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়া ছবিটি সপ্তাহ না পেরুতেই শত মিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। এবার বাংলাদেশের দর্শকদের মাতাতে আসছে ছবিটি। আগামী ২২ মে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে ম্যাড ম্যাক্স সিরিজের এই চতুর্থ ছবি। এ ছবির মাধ্যমে ৩০ বছর পর রূপালি পর্দায় ফিরল ম্যাক্স। এবার এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হার্ডি। ছবিতে দেখা যাবে রহস্যময় এক বিশ্বে পেট্রোল ও পানি সম্পদ নিয়ে মন্দ মানুষদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। অ্যাকশন ও কল্পবিজ্ঞানধর্মী ছবির আঙিনায় বহুদিন পর ফিরলেন পরিচালক জর্জ মিলার। ১৯৭৯ সালে অমানবিক ও অপ্রীতিকর সমাজ সাজিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘ম্যাড ম্যাক্স’। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আয়ের এই ছবি এক দশকের সবচেয়ে লাভজনক চলচ্চিত্র হিসেবে গিনেস রেকর্ড ধরে রেখেছে। এই সাফল্যের সুবাদে ‘ম্যাড ম্যাক্স টু’ (১৯৮১) এবং ‘ম্যাড ম্যাক্স বিয়ন্ড থান্ডারডোম’ (১৯৮৫) ছবি দুটি নির্মাণ করেন জর্জ মিলার। তিনটিতেই ম্যাক্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মেল গিবসন। অস্ট্রেলিয়ান নির্মাতা জর্জ মিলার ‘লরেঞ্জোস অয়েল’ (১৯৯২) ছবির জন্য অস্কারে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে মনোনয়ন পান। এর তিন বছর পর তার প্রযোজিত ‘বেবি’ অস্কারে সেরা ছবি-সহ সাতটি বিভাগের জন্য মনোনীত হয়। ২০০৬ সালে তার পরিচালিত ‘হ্যাপি ফিট’ অস্কারে সেরা অ্যানিমেটেড ছবি নির্বাচিত হয়।
পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক ডিস্টোপিয়ান ঘরানার সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘ম্যাড ম্যাক্স’ সিরিজকে বেশ ওপরের দিকেই জায়গা দেন সাই-ফাই ভক্তরা। অন্ধকার এক আগামীতে বিলুপ্তপ্রায় মানব সভ্যতার টিকে থাকার লড়াইয়ের কথা বলে এই ঘরানার সিনেমাগুলো। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ‘ম্যাড ম্যাক্স’ প্রথম পর্দায় আসে ১৯৭৯ সালে। কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘ম্যাক্স’-এর চরিত্রে ছিলেন মেল গিবসন। তার অনবদ্য অভিনয় চরিত্রটিকে সেলুলয়েডের ইতিহাসে ‘সারভাইভাল আইকন’- এ পরিণত করেছে। যদিও এই সিরিজের নতুন ছবিতে ক্ষ্যাপাটে ম্যাক্সরূপে আর চোখে পড়বে না মেল গিবসনকে। দর্শক এবার দেখবেন নতুন ম্যাক্সকে। আর এবার এই চরিত্রটি রূপায়নের গুরুদায়িত্ব পড়েছে ‘ইনসেপশন’ এবং ‘ব্যাটম্যান: দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা টম হার্ডির ওপর। অস্ট্রেলীয় মরুভূমিতে মুখোশধারী ওয়ারলর্ড ইমরটান জো এবং তার বাইকার গ্যাং ওয়ার বয়েজের হাত থেকে এক দল নারীকে উদ্ধার করার অভিযানে দেখা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিনেত্রী শার্লিজ থেরনকে। ইম্পারেটর ফিউরিওসা চরিত্রে থেরনকে এই অভিযানে সহায়তা করবে ম্যাক্স রকাটান্সকি। বর্তমান সময় থেকে ৪৫ বছর পরের দুনিয়ায় মরুভূমিতে বাইকার গ্যাং আর ম্যাক্স-ফিউরিওসার লড়াইটা বেশ জমজমাটই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। টম হার্ডি এবং শার্লিজ থেরন ছাড়াও থাকছেন ‘এক্স মেন’ সিরিজে অভিনয় করা নিকোলাস হল্ট। এছাড়াও দেখা যাবে হিউ কিজ বায়রন, রোজি হানিংটন, জো ক্র্যাভিটজের মত তারকাদের।
এবারের পর্বে দেখা যাবে, গত কয়েক বছর ধরে দুনিয়াজুড়ে ধারাবাহিকভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে। এদিকে, ম্যাক্স নামের সাবেক এক প্রধান সড়কপথের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তার সঙ্গে ফিউরিওসা নামের এক ললনার দেখা। ফিউরিওসার উদ্দেশ্য হলো, যে করেই হোক বিশাল মরুভূমি পাড়ি দেওয়া। যেখানে তার সঙ্গী হিসেবে আছে ফাইভ ওয়াইভস নামের বন্দি একদল নারী সদস্য। অবিনশ্বর জো এবং তার রক্তপিপাসু বাহিনী ওয়ার বয়েজের জুলুম যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে, ফিউরিওসা এবং তার দল ম্যাক্সের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। কারণ, একমাত্র ম্যাক্সই অবগত আছেন, বিশাল মরুভূমির বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে টিকে থাকতে হয়। ঘটনাক্রমে ম্যাক্সের সঙ্গে জো এবং তার বাহিনীর মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়ে যায়। ম্যাক্স কি পারবে ফিউরিওসা এবং তার দলকে জো’র চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে?

