নিজস্ব প্রতিবেদক : ড্যান্ডি ডায়িংয়ের ৪৫ কোটি ঋণখেলাপির মামলা মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এজন্য তিনি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন মেজবাকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন।
রোববার এ মামলাটির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন মেজবাহ জবাব দাখিল ও ইস্যু গঠনের জন্য সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস আগামি ৩০ জুন পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
এছাড়া মৃত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান বিদেশে থাকায় তাদের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
গত ১২ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। একই আদেশে বিচারক মৃত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে হাজিরের জন্য সমন দেন।
গত ২২ মার্চ ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোকসানা আক্তার হ্যাপি বাদী পক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে ওই চারজনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
এ মামলাটির শুরুতে নতুন করে বিবাদিভূক্ত এই চারজন ছিলেন না। কোকোর মৃত্যুর কারণে ইসলামী শরীয়াহ আইনের বিধান মোতাবেক উত্তরাধিকারী হিসেবে তারা বিবাদীভূক্ত হন।
গত ১৬ মার্চ আদালত তাদেরকে বিচারক বিবাদীভূক্ত করেন।
আগামী ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশ দাখিল ও ইস্যু (বিচার্য বিষয়) গঠনের দিন ধার্য আছে।
সোনালী ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম ও বিবাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন মেজবাহ শুনানিতে অংশ নেন।
এদিকে আদালত শেষবারের মতো আসামিপক্ষকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশ দাখিল করা না হলে ওইদিন ইস্যু গঠন করা হবে।
গত ৮ মার্চ খালেদাসহ অন্যদের বিবাদীভূক্ত করার জন্য ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে আবেদন জানান সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ২২নং আদেশের বিধি-৪ অনুসারে কোকোর সম্পদের উত্তরাধিকারীরা বিবাদীভূক্ত হলেন।
যেহেতু বাংলাদেশে শরীয়াহ আইনের বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টিত হয় সেজন্যই খালেদা জিয়া, কোকোর স্ত্রী ও তার সন্তানরা বিবাদী হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।
তবে উত্তরাধিকারী হওয়া সত্বেও তারেক রহমান পূর্ব থেকেই বিবাদী থাকায় নতুন করে বিবাদীভূক্ত করার আবেদন জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে মামলাটি করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
এ মামলার বিবাদীরা হলেন ড্যান্ডি ডায়িং লিমিটেড, প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের ছেলে শামস এস্কান্দার ও সাফিন এস্কান্দার, মেয়ে সুমাইয়া এস্কান্দার, স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজী গালিব আহমেদ, শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান।
এ মামলার ১০ নম্বর বিবাদী মোজাফফর আহমেদ মারা গেলে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে মাসুদ হাসানকে বিবাদীভূক্ত করা হয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলাটি করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদীরা ড্যান্ডি ডাইংয়ের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক বিবাদীদের আবেদনকৃত ঋণ মঞ্জুর করেন।
২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনক্রমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সুদ মওকুফ করেন। এরপর ঋণ পুনঃতফসিলিকরণও করা হয়। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ পরিশোধ না করে বরাবর কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও বিবাদীরা কোনো ঋণ পরিশোধ করেননি।

