ঢাকাThursday , 14 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সালাহ উদ্দিনও কি মুখে কুলুপ আঁটবেন?

Link Copied!

salah-uddinনিজস্ব প্রতিবেদক : ওরা কোথায় যেন হারিয়ে যান। ভাগ্যবান কেউ কেউ আবার ফিরেও আসেন। কিন্তু কোথায় গিয়েছিলেন তারা? কারা নিয়ে গিয়েছিল তাদের? কোথায় ছিলেন অতদিন? ফিরে এসে তার কিছুই বলতে পারেন না বা বলেন না কেউ। হয়ে যান একেবারে নিশ্চুপ, স্মৃতিভ্রষ্ট। কেউ কেউ আবার বদলে ফেলেন পূর্বের আবাসস্থল। ফিরে আসা প্রায় সকলেরই বক্তব্যে কিছু কিছু বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
সম্প্রতি দুই মাসেরও বেশী সময় পর খোঁজ পাওয়া ‘নিখোঁজ’ বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রেও একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। তাকেও চোখ বেঁধে ছেড়ে দেয়া হয় ভারতের আসামে। তিনিও বলতে পারেননি কে বা কারা তাকে সেখানে ছেড়ে দিয়েছে। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কিভাবে তিনি সেখানে পৌঁছালেন। তবে এক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম হচ্ছে, ইতোপূর্বে ফিরে আসা ভাগ্যবানদের সকলকেই পাওয়া যায় দেশের ভেতরে। আর সালাহ উদ্দিনকে পাওয়া গেল দেশের বাইরে।
গত বছর দেশে বেশ কিছু গুমের ঘটনা ঘটে। গুম হওয়া কয়েকজনকে আবার ফেরতও দেয় অপহরণকারীরা। ফিরে আসার পর তাদের মধ্যে যে কয়েকজন মুখ খুলেছেন অদ্ভূতভাবে তাদের সকলের বক্তব্যই ছিল কমবেশী প্রায় একই রকম।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী সকলকেই চোখ বেঁধে রাখা হয়। মাথায় পরিয়ে দেয়া হয় কালো টুপি। অধিকাংশকেই নিয়ে যাওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে। অথচ র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, সিআইডি কেউ তাদের খোঁজ জানে না। অপহৃতদের তেমন কোনো শারীরিক নির্যাতনও করা হয় না। আবার অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে কোনো মুক্তিপনও চাওয়া হয়না। ছেড়ে দেয়ার সময় হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় কিছু টাকা। ঘটনায় এত মিল থাকার পরও এসব অপহরণকারীরা সবসময় রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত বছরের ২৮শে নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গুম হন ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ৫ কর্মী। তারা হলেন সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মোল্লা, ৭৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি খালেদ হাসান সোহেল, ৭৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আনিসুর রহমান খান, একই ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ও ৮০ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদল সম্পাদক মিঠু। ১১ দিন পর মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আনিসুর রহমান, বিপ্লব ও মিঠুকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি সম্রাট ও খালেদের। মুক্তির পর থেকে অজ্ঞাত কারণে লাপাত্তা হয়ে আছেন আনিসুর রহমান, বিপ্লব ও মিঠু।
তারা জানান, অপহরণকারীরা তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করতো। তবে সবসময় গামছা দিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে রাখতো। ছেড়ে দেয়ার সময় তাদের হাত ও চোখ বাঁধা ছিল গামছা দিয়ে। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে ২০০ টাকা করে দিয়ে দেয় অপহরনকারীরা।
২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল রোববার দুই মাসেরও বেশী সময় নিখোঁজ থাকার পর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার আবুল হাসানাত পলিনকে মিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় চোখ বেঁধে রেখে যায় অপহরণকারীরা। মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার বাসায় পৌঁছাতে রিকশা ভাড়া বাবদ অপহরণকারীরা তাকে ৫০ টাকাও হাতে দিয়ে দেয়। এর পর তিনি চোখ খুলে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
পলিন গোয়েন্দাদের জানান, গাড়িতে তুলে নেয়ার পরপরই তাকে একটি কালো মাস্ক পরানো হয়। গাড়ি দিয়ে ঘণ্টা দেড়েক যাওয়ার পর একটি বাড়ির সামনে গিয়ে থামে গাড়িটি। এর পর তাকে রাখা হয় একটি কক্ষে। দেড় মাসের মতো ওই জায়গাতেই রাখা হয় তাকে। এর পর একদিন তাকে আবার গাড়িতে তুলে ঘণ্টা দেড়েক চালানোর পর আরেকটি বাসায় নেয়া হয়।
তিনি জানান, তিনি প্রথমে যেখানে ছিলেন সেখানে তার মতো আরও ৩/৪জন ছিলো। তবে পরে তাদের আর দেখেননি তিনি। অপহরণকারীরা তাকে কোনো মারধর করেনি। তিনবেলা ঠিকমতো খাবার দিতো। তাকে যে কক্ষে রাখা হয়, কখনও কখনও সেখানে উচ্চ স্বরে গান-বাজনা হতো।
পলিন জানিয়েছেন, অপহৃত হওয়ার পর থেকেই তার হাত-পা বেঁধে রাখা হতো। শুধু খাওয়ার সময় হাতকড়া খুলে দেয়া হতো। মলমূত্র ত্যাগ করতে দুই মিনিট সময় দেয়া হতো। এর বেশি হলে গালমন্দ করা হতো।
তিনি জানান, মানসিকভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। অপহরণ কিংবা অপহরণকারীদের বিষয়ে খুব বেশী কথা বলতে চাননি পলিন।
এর আগে ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল বুধবার অপহৃত হওয়ার ৩৫ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে একইভাবে বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানার স্বামী আবু বকর সিদ্দিককে মিরপুরের পাইকপাড়ায় চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। বাসায় ফিরে যেতে আবু বকরকেও ৩০০ টাকা হাতে গুঁজে দেয় তারা। আবু বকর সাংবাদিকদের জানান, তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর একটি বাড়িতে নেয়া হয়। তার চোখ সার্বক্ষণিক বাঁধা ছিল। ধরে নেয়ার সময় কিছু কিল-ঘুষি ছাড়া তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তাকে নিয়মিত খাবার দেয়া হতো। সবসময় কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে রাখা হত। শুধুমাত্র টয়লেটে যাওয়ার সময় চোখ খুলে দিতো। অপহরণকারীদের শারীরিক বর্ননা দিয়ে আবু বকর বলেন, তারা সংখ্যায় ৫/৭ জন। তাদের সকলেরই বয়স ৩৫ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকেই সুঠাম দেহের অধিকারী। তবে তাদের মধ্যে একজন পোশাক-আশাকে বেশ পরিপাটি ছিলেন। তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ফিরে আসার পর আবু বকর মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
একই বছরের ৭ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার তিনদিন পর তিন সহোদর আবু হানিফ, নাজমুল ও সানোয়ারকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফিরে আসার পর তারা জানান, রাতের আঁধারে কালো মুখোশ পরিয়ে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু অপহরণের তিনদিন তাদের কোথায় রাখা হয়েছিল তা বলতে পারেননি তারা।
উদ্ধার হওয়া হানিফ বলেন, ‘আমাদের তিন ভাইকে কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমাদের তিনজনকে পৃথক তিনটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখে। দরজার নিচ দিয়ে আমাদের খাবার দেয়া হতো। তবে তারা আমাদের কোনো নির্যাতন বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।’
তিন সহোদরের মধ্যে কনিষ্ঠ সানোয়ার হোসেন ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মল্লিকবাড়ি মোড়ে রাতের অন্ধকারে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমাদের মোবাইল ফোনগুলো ফেরত দেয়া হয়। খুলে দেয়া হয় চোখের বাঁধন। পরে ১০ মিনিট পর্যন্ত পেছনে না তাকিয়ে সামনের দিকে হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তারা চলে যায়।’