নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা বর্ষবরণের দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবির এ কাজ পরিচালনা করছে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ দেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হোক এটা জামায়াত-শিবির চায় না। তারা বলেন, এটা নাকি বিজাতীয় সংস্কৃতি।’
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ও ভারতের স্থল সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত-শিবিরের সদস্যরা লিখেছে ‘পহেল বৈশাখ উৎসব আমরা চাই না, যে মেয়েরা পহেলা বৈশাখের উৎসবে যাবে তাদের আমরা বিয়ে করবো না।’
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশবাহিনীকে অনুরোধ করবো, পহেলা বৈশাখে যারা মেয়েদের ঘর থেকে বের হওয়া পছন্দ করে না তারা মেয়েদের উপর এ জঘন্য হামলা পরিচালনা করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানের কারণে আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সোনিয়া গান্ধীকে অভিনন্দন জানাতে ভুলে যাননি। কিন্তু যার চেষ্টায় স্থল সীমান্ত সমস্যা সমাধান হলো, সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাননি। আপনি দেশের মানুষের কাছে যেমন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন তেমন ভারতের কাছেও আপনার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’
সিটি নির্বাচনের দিন বিএনপি পালিয়ে গেছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আন্দোলনে সময় যাদের পাওয়া যায় না, দলের পক্ষে এজেন্ট দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা আরো বলেন, ‘এখন মনযোগ দিয়ে দল ঘুচান। ২০১৯ সালে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’
জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এমএ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এমএ করিম, অধ্যাপক ফজলুল হক প্রমুখ।

