ঢাকাTuesday , 12 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির ঘাঁটিতে গভীর সঙ্কট

Link Copied!

BNPচাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের রাজনীতিতে গভীর সঙ্কটে পড়েছে বিএনপি। ‘চাঁদপুরের মাটি বিএনপির ঘাঁটি’ বলে বিবেচিত চাঁদপুরে দলটি পড়েছে আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। এ থেকে উত্তরণে কোনো পথও দেখতে পাচ্ছে না নেতারা। এ পরিস্থিতিতে জেলার শীর্ষ নেতারা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে অনেকটা হাত ধরেই আওয়ামী লীগকে মেয়র পদে বসিয়ে দিয়েছে তারা।
ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশে মামলা-হামলার কারণে নেতাদের আত্মগোপন, দলীয় গ্রুপিং, অঙ্গ সংগঠনগুলোতে পুতুল নেতৃত্ব বসানো, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের হাতে নেতৃত্ব না থাকাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত চাঁদপুর জেলা বিএনপি।
মধ্যম সারির নেতাদের অভিযোগ, সরকারের নীলনকশার নির্বাচনে একদিকে নিজেদের প্রার্থীকে জোর করিয়ে পাস করানো হয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মী, বিএনপিপন্থি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও ‘একদিন সুদিন আসবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে’- এমন আশা নিয়ে বসে আছেন অনেকেই।
এদিকে সহিংসার মামলাগুলো দ্রুত সচলের ঘোষণা দিয়েছে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীরা। এতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশও। হরতাল-অবরোধ চলাকালীন চাঁদপুরে পুলিশ ২২টি মামলায় প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে। ফলে বিএনপিসহ ২০ দলের শীর্ষ নেতারা এসব মামলায় আসামি হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এতে নেতাশূন্য হয়ে পড়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপি।
অপরদিকে, পুলিশ বেছে-বেছে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে তাদের আটক করায় আবরোধ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হতে হয়। আর এর ফলে অবরোধ চলাকালে প্রথমদিকে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনজীবন।
বিএনপির আন্দোলন-পিকেটিং বন্ধ করতে পুলিশ সক্রিয় নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতেও প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে। এতে তারা বাসা-বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
তবে চাঁদপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হতাশ হয় গত ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌর নির্বাচন বিবৃতির মাধ্যমে বর্জন করায়। ওই নির্বাচনে দলের মুখপত্রের বিবৃতি পৌরবাসীসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, কতটা খাদের কিনারে দাঁড়ালে বা দলের অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়লে নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগ নেতার বিজয়ে অভিনন্দন বার্তা দেয়া হতে পারে। এটা কেবল রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই ভালো বলতে পারেন।
এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে সর্বত্রই চাউর হচ্ছে- শেষ পর্যন্ত বিপর্যস্ত জেলা বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী? একের পর এক মাঠ পর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপি সরকারি দলের পূর্ণশক্তির সঙ্গে মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান করতে পারবে কি-না এ নিয়ে খোদ দলের মধ্যেই চলছে পর্যালোচনা।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ-হরতালের রাজনীতিতে মাঠে ছিল না জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এছাড়া দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মাঠে দেখেনি কর্মী-সমর্থকরা। ফলে দলের ভেতরে বাইরে শূন্যতা বিরাজ করছে। পরিণতিতে মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি পালন করার মত নেতাকর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলার রাজনীতিতে বিএনপির পিছু হটাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীর সঙ্কট হিসেবে মনে করছেন। তাদের মতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে যে সম্প্রীতির রাজনীতি ছিল তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে চাঁদপুরের রাজনীতিতে শূন্যতা সৃষ্টি হতে বেশিদিন লাগবে না বলেও মনে করেন অনেকে।
অপরদিকে, চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে জোর করে জয় ছিনিয়ে নিয়েও জেলা আওয়ামী লীগ এখন অনেকটাই ফুরফুরে আমেজে রয়েছে। গত ২৯ মার্চ মেয়র নাছির উদ্দিনের জয় নিশ্চিত করে দলটি এখন জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া জেলার ৫টি সংসদীয় আসন, ৬টি উপজেলা চেয়ারম্যান পদসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার পদের দায়িত্ব নিজেদের আয়ত্বে রাখতে পেরে আওয়ামী লীগ অনেকটাই শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে।
তবে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা বাদে বাদবাকি উপজেলার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানরা বিএনপিপন্থি হওয়ায় তাদেরও সরিয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সদরের ২/৩টি ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্তের আদেশে সেই চিন্তার বহিঃপ্রকাশ বলে জানায় ওই সূত্র। বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর এখন জোর করে দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুব আনোয়ার বাবলু বলেন, ‘পুলিশের মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা স্বস্তিতে নেই। অনেকেই এখন এসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় পালিয়ে থাকছেন। জেলা আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সংশ্লিষ্টতায় না থেকেও দুটি বিপজ্জনক মামলার আসামি হয়েছেন। তবে গণতন্ত্রের বিজয় একদিন হবেই।’