নিজস্ব প্রতিবেদক : ধৈর্য-প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও কালজয়ী নেতৃত্বের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকায় বড় অনুষ্ঠান করে সংবর্ধনা দেবে ১৪ দল।
মঙ্গলবার দুপুরে ১৪ দলের এক সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
এসময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের উপর হামলায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় আমরা (১৪ দল) চাই- এ বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে চিহ্নিত অভিযুক্তকে শাস্তি দেয়া হবে। ইতিমধ্যে ডিএমপি কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা মনে করি চিহ্নিদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ডিএমপি।
তিনি এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘ফের আরেক ব্লগার হত্যার বিষয়ে এইমাত্র শুনলাম। আগে জানতাম না।’
তিনি আরো বলেন, ‘৬২ বছর পরে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা নির্ধারিত হয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে এটা পাস হয়েছে। এজন্য ১৪ দলের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করছি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীসহ ভারতের সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানায় ১৪ দল। সংবাদ সম্মেলনের ১৪ দলের শীর্ষনেতারা এই চুক্তি বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে কোনো রকম অভিনন্দন না জানানোরও সমালোচনা করেন।
ব্রিটেনে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত টিউলিপ সিদ্দিক, রুশনারা আলী, রুপা হক নির্বাচিত হওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নাতনী টিউলিপসহ মোট ৩ বাংলাদেশি কন্যা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা যদি কখনো বাংলাদেশে আসেন তবে তাদেরকেও ১৪ দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।
এ সংবাদ সম্মেলনে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৭১ সালে। কিন্তু ছিটমহলবাসী মানুষ স্বাধীনতা পায়নি। এখন এই চুক্তির বাস্তবায়ন হওয়ার মোদিকে ধন্যবাদ জানালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে খালেদা জিয়া কার্যত দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’
এর আগে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বেসমারিক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘খালেদা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ না জানালেও ভারতের সবগুলো রাজনৈতিক দল এক হয়ে তাদের সংবিধান সংশোধন করেছেন। বিএনপিসহ সব বিরোধী দলকে এই চরম বাস্তবতা অনুধাবন করার জন্য অনুরোধ করবো।’
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি, বন ও পরিবেশ মঞ্জু আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সদস্য আবদুস সাত্তার, সুজিত রায় নন্দী, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ডা. এনামুল হক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব অসীত বরণ রায়, গনতন্ত্রি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সহ-সভাপতি শিরিন আখতার, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসকে শিকদার, বাসদ আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ।

