
কৃষিকথা’র ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এআইএস’র পরিচালক মিজানুর রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম মুখপত্র ‘কৃষিকথা’র ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ আ. কা. মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কৃষিবিদ শেখ হেমায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ‘কৃষি উন্নয়নে কৃষিকথার অবদান’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)’র পরিচালক মিজানুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দেশের কৃষি, কৃষক তথা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে ‘কৃষিকথা’র অবদান ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, কৃষির আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তি সহজ সরল ভাষায় কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজটি পালন করছে কৃষিকথা। তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে দেশে অনেক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি সমাজে প্রাচীনতম প্রিন্ট মিডিয়াটির নাম হলো কৃষিকথা। তিনি আরো বলেন, এ পত্রিকাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম মুখপত্র হিসেবে ৭৪ বছর ধরে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। দেশের খ্যাতিমান কৃষিবিদ, গবেষক, লেখক, কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সুধী সমাজের একটা বড় অংশ নিয়মিত এ পত্রিকাতে তাদের জ্ঞানগর্ভ লেখা, প্রবন্ধ, কবিতা বা গবেষণালব্ধ ফলাফল কৃষকের বোধগম্য করে লিখে থাকেন। পত্রিকাটির মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক নিয়মিতভাবে কৃষিবিষয়ক তথ্য সেবা পেয়ে আসছেন বলে জানান মন্ত্রী। মাত্র ৫ টাকা মূল্যে এবং বাৎসরিক ৫০ টাকায় যে কেউ যে কোনো সময় পত্রিকাটির গ্রাহক হতে পারছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি ও কৃষকের কথা মাথায় রেখে পত্রিকাটি আরও যুগোপযোগী করার চেষ্টা সর্বদা চালিয়ে যেতে হবে। এ সময় কৃষিকথাকে ডিজিটালাইজড করে ই-বুকে পরিণত করার জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মো. মকবুল হোসেন বলেন, দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর চাহিদামাফিক তথ্য প্রকাশ করে কৃষিকথা পত্রিকাটি কৃষি তথ্য সার্ভিস তথা কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক গৌরবময় অধ্যায় অতিক্রম করে যুগ যুগ ধরে আমাদের কৃষি সেক্টরকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। কৃষির আধুনিক কলাকৌশলকে কৃষকের জীবনের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে কৃষিকথা।
শেখ হেমায়েত হোসেন বলেন, কৃষিকথা তার জন্মলগ্ন থেকেই কৃষির আধুনিক কলাকৌশলকে সহজ সরল ভাষায় কৃষকের দোরগৌড়ায় পৌঁছে দিয়ে কৃষক, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মীসহ সকলের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে এআইএস’র সাবেক পরিচালক, সম্পাদকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, অঞ্চল পর্যায়ের কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কৃষিকথা পূর্বে ‘কৃষি সমাচার’ হিসেবে প্রকাশিত হতো। তৎকালীন বঙ্গীয় কৃষি বিভাগ ১৯২১ সালের মার্চ মাসে কৃষি সমাচার নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে। তখন এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৩৩। নিবন্ধ, গল্প, খবর, ব্যক্তিগত সংবাদ, হাঁস-মুরগি পালন ও কৃষি তথ্যাদিতে পরিপূর্ণ থাকত পত্রিকাটি। কৃষি সমাচার ১৯৩৯ সালে রূপ নেয় কৃষিকথা হিসেবে। তখন দ্বিমাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অধিক খাদ্য ফলাও অভিযান শুরু হলে কৃষিসংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা হয়। ফলে ১৯৪১ সাল থেকে কৃষিকথা মাসিকে রূপান্তরিত হয়। সে হিসাবে কৃষিকথার জন্মসাল ধরা হয় ১৯৪১। এ জন্মসাল ধরেই কৃষিকথার প্রকাশকাল গণনা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী কৃষিকথা এখন ৭৫ বছর বয়সে পদার্পণ করেছে।

