ঢাকাMonday , 4 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাম্পার ফলন, তবুও হতাশা

Link Copied!

Paddyনোয়াখালী প্রতিনিধি : চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও বৈরী আবহাওয়া এবং বাজারে ধানের বিক্রি মূল্য কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
গত কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টি কারণে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে নোয়াখালীর কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই ক্ষেতের মধ্যে পাকা ধান কেটে ফেলে রেখেছে, কেউ আবার ধান কেটে মাড়াই করতে পারছে না, কারো কারো ধান মাড়াই করার পর রোদ না থাকায় শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারছে না।
এদিকে ধান চাষের সময় সার, বীজ, কীটনাশক ক্রয় করতে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হওয়া। তার উপর বাজারে নতুন ধানের মূল্য না থাকায় আরও হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকরা। এক মণ (৪০কেজি) ধান বিক্রি করলে একজন শ্রমিকের মুজুরির মূল্য হচ্ছে না বলে দাবি কৃষকদের। ফলে এনজিও ঋণ ও দায়-দেনা নিয়ে দিশেহারা কৃষকরা।
জেলার কয়েজন কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতি কানি (দেড় একর) জমি চাষে ট্রাক্টর বাবদ ৩ হাজার টাকা, সার, কীটনাশকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, পানি সেচে ১৫শ থেকে টাকা, বীজ ক্রয় শ্রমিক খরচ ৩ হাজার টাকা, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো শ্রমিকের মুজুরিসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকাসহ অন্তত ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর প্রতি কানিতে ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭০ মণ।
প্রতি মণ ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ৪শ থেকে ৪৫০ টাকা টাকা। অর্থাৎ এত পরিশ্রমের পর প্রতি কানিতে মাত্র কয়েক হাজার টাকা লাভ থাকে। বাজারে ধানের এমন মূল্য চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি পেশার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে বলেও জানান কৃষকরা।
সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আমান উল্যা বেপারী জানান, তিনি এবছর ১৫ গণ্ডা জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। প্রায় ৪০ মণের মতো ধানও পেয়েছেন। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে ধার-কর্জ করে টাকাও পরিশোধ করতে পারছেন না।
নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৫৪ হাজার ৬শ ৬৭ হেক্টর জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৫৬ হাজার ২শ ৫৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নোয়াখালী সদরে হাইব্রিড ৩৯০০, উপশী ২৬০০, বেগমগঞ্জে হাইব্রিড ৮১০০, উপশী ৬৯০০, সেনবাগে হাইব্রিড ১৬০০, উপশী ৬৮৪২, চাটখিলে হাইব্রিড ৬৬০০, উপশী ১৫০০, কোম্পানীগঞ্জে হাইব্রিড ৪৬০, উপশী ৬৩৫, হাতিয়ায় হাইব্রিড ১০, উপশী ৬, সুবর্ণচরে হাইব্রিড ২১০০, উপশী ৯০০ এবং কবিরহাটে হাইব্রিড ৪১০০ ও উপশী ৯০০হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। সে হিসেবে গত বছরের উৎপাদিত ২লাখ ৩২ হাজার ৫০৪ মে.টন ছাড়িয়ে এ বছর ২ লাখ ৪৯ হাজার ২০ মে. টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য্য জানান, অধিদপ্তরের নানা প্রণোদনা ও সহযোগিতা বাড়ার কারণে এ বছর ইরি-বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। সে হিসেবে উৎপাদন বেড়ে যাবে। তবে বাজারে দাম কম হওয়ার বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। এ বিষয়ে তার দপ্তরের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তিনি, যতটুকু সম্ভব ধান মাঠ থেকে উঠার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি না করে মজুদ রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখনও সরকারিভাবে ধান ও চালের দাম নির্ধারণ বা সংগ্রহের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’