নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩ সিটি নির্বাচন বাতিল ও কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতারা।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন ছিল জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা। কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ-ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাচারিতায় পুরো নির্বাচনটি একটি আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। এরকম প্রকাশ্য ভোটচুরি ও ডাকাতির ঘটনায় দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা বিস্মিত, উৎকণ্ঠিত ও আতঙ্কিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ ও র্যাব মিলে ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রতারণা জালিয়াতি ও গায়ের জোরে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। অস্ত্র ও পেশীর বলে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের মতো মেয়র পদও দখল করেছে সরকার।
এসময় সংগঠনের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকারের মর্জি পূরণ করে নির্বাচনের নামে জিতিয়ে দিয়েছে আওমী লীগকে কিন্ত হারিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্রকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সংলাপের কাজটি করতে চেয়েছিলাম। নির্বাচন ছিল সংলাপের মূল লক্ষ্য কিন্তু গতকালের নির্বাচন বিগত যে কোনো নির্বাচনের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়। তাই আমরা এ নির্বাচনকে আবর্জনা হিসেবে উল্লেখ করেছি। এবং এ নির্বাচনকে বাতিল করার দাবি জানিয়েছি।’
‘হারলে বর্জন আর জিতলে ঠিক আছে’-প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে এমাজউদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ স্থানে বসে আছেন। তার বিষয়ে সমালোচনা করতে চাই না।’
কোনো কর্মসূচী দেয়া হবে কিনা প্রশ্নে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের ইস্তেহার অনুযায়ী কাজ করবো। এবং প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন। তবে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো কর্মসূচি নাই।’
নির্বাচন বর্জন পূর্ব কৌশল ছিল কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনাই আমাদের ছিল না। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই, প্রায় ৯০ শতাংশ এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিএনপি লাভবান হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে কিছু বলতে পারছি না, তবে নাগরিক হিসেবে বলতে পারি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারের প্রধান থাকাকালীন সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয় তা প্রমাণিত হল।’
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সাবেক প্রোভিসি আসম ইউসুফ হায়দার, সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহাবুব উল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।

