ঢাকাWednesday , 29 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বর্জন করলেও পর্যবেক্ষণ করছেন খালেদা

Link Copied!

Khaleda1নিজস্ব প্রতিবেদক : নজিরবিহীন অনিয়ম আর বয়কটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলেও কথা রেখেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের প্রচলতি রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী নির্বাচন বর্জনের পর হরতালের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেননি। যা দেশবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে নেমে এক সন্ধ্যায় বিনোদনের তীর্থস্থান রঙিন আলোয় ভরা হাতির ঝিলে যান খালেদা জিয়া। সেখানে একপথচারী তার কাছে ‘পজেটিভ রাজনীতি’ দাবি করেন। জবাবে তিনি বলেছিলেন, তার দল ও জোট পজেটিভ রাজনীতি করে।
২০ দলের টানা ৩ মাসের আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক সহিংসতা আর প্রানহানির কারণে খালেদা জিয়া যতোটা সমালোচিত হয়েছিলেন, নির্বাচন বর্জন করে তাৎক্ষণিক হরতাল ঘোষণা না করায় তিনি ঠিক ততোটা প্রশংসিত হচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
তবে অনেকে বলছেন, খালেদা জিয়ার এই প্রশংসা প্রাপ্তির নেপথ্যের কারিগর দলের থিংক ট্যাঙ্ক আনপ্যারালাল পলিটিক্যাল হিরো ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশে  ‘নির্বাচন বর্জন’ সংবাদ সম্মেলন শুরু করলেও সমাপ্তিতে পুরোদমে পরিপক্কতা দেখিয়েছেন তিনি।
তার বক্তব্য শেষে তিনি কোনো প্রশ্ন নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে জাতীয় গণমাধ্যম কর্মীদের থেকে প্রশ্ন না নিলেও এড়াতে পারেননি আন্তজার্তিক গণমাধ্যম। বিবিসি বাংলার সাংবাদিক কাদির কল্লোল পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।’
অবশ্য সেখান থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনাকারী সংগঠন ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’ কমিটির আহ্বায়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তাবিথ, আফরোজা এবং উত্তর ঢাকার নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে মওদুদ উপস্থিত থাকলেও তার পাশে দক্ষিণের সমন্বয়কারী আ স ম হান্নান শাহকে রহস্যজনক কারণে দেখা যায়নি। সূত্র জানায়, গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার মাশুল হান্নান শাহকে দিতে হচ্ছে! তবে তার অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৫টায় পল্টন কার্যালয়ে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী দু’এক দিনের মধ্যে খালেদা জিয়া শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন বর্জন করলেও তারা ভোট গণনা ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছেন। ভোট গণনা প্রক্রিয়া এবং ফলাফল পর্যালোচনা করে তাদের যুক্তি তুলে ধরবেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সহিংসতা আর প্রাণহানির ঘটনার দায় দিয়ে ক্ষমতাসীনরা বিএনপির বিরুদ্ধে যে প্রচার চালিয়েছে তা সরকার দলীয় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফলে তাদের যে কোনো মূল্যে নির্বাচনে জয়লাভের মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিএনপিও চিন্তা করছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার পতন হবে না। আর তার দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে তারা যে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এ নিয়ে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত। তাই তাদের মধ্যেও এক ধরনের মানসিকতা ছিল যে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু না হলে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপি জোটের অভিযোগ প্রমাণ হবে। আর তা তাদের মূল দাবির দিকে অগ্রসর হতে সহায়ক হবে।