ঢাকাMonday , 27 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচনের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠছে আন্ডারওয়ার্ল্ড!

Link Copied!

DCCনিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাং ক্রমেই নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে উঠছে। পুরো নির্বাচনী মাঠে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুসারীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিকবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর, এক মেয়র প্রার্থী এবং একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন তথ্য অনেক আগে থেকে গোয়েন্দারা তাদের জানিয়েছে। মূলত আন্ডারওয়ার্ল্ড সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে ঢাকার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ৯৮২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৮৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর উত্তরে ৫৮৭টি আর দক্ষিণে ৯৯৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অবাধ ভোটগ্রহণই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে বন্দি ও বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের অনুসারীদের নিজেদের পছন্দের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনও নির্দেশনা দিয়েছেন যে প্রয়োজন হলে কেন্দ্র দখল এবং সহিংসতা করে পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জোসেফের অনুসারীরা মোহাম্মদপুর এলাকায় নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী শাহাদাতের অনুসারী মিরপুর এলাকায় এবং সুইডেন আসলামের অনুসারীরা গুলশান, মহাখালী এবং বাড্ডা এলাকার নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। পুরান ঢাকায় ক্রসফায়ারে নিহত ডাকাত শহীদের অনুসারীরা এবং মগবাজার, খিলগাঁও ও মালিবাগ এলাকায় মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী জিসানের অনুসারীরা নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শুধু এসব সন্ত্রাসীরাই নয় বিভিন্ন এলাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীরা সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে গতকাল রোববার ভোরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী মাহী বি চৌধুরীর ওপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এমনকি শুধু শনিবারেই তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় অস্ত্রধারীরা হামলা করেছে। এদিন দক্ষিণের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবা চৌধুরীর মিছিলে হামলা করলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা আরজু গুরুতর আহত হন। একই দিন সেগুনবাগিচায় ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরীর ওপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ওই দিনই কাকরাইলে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগমের নির্বাচনী প্রচারণা মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে একাধিকবার অস্ত্রধারীরা হামলা করেছে। এসব ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এছাড়া, মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ভয় পাচ্ছে মানুষ। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীরাও সাহস পাচ্ছেন না। তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে। অথচ এসব রোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি রাজধানীতে অস্ত্র প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম রেলওয়েতেও নজরদারি জোরদার করা হয়নি। উল্টো গত বৃহস্পতিবার দু’টি স্পর্শকাতর স্টেশন কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ৩০ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, জনবল সঙ্কটের কারণে এমনিতেই স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন স্পর্শকাতর দুটি স্টেশন থেকে আর্মড পুলিশ প্রত্যাহার করায় কার্যত এ দু’টি স্থান অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা, ঢাকার অধিকাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের তৎপরতার ফলে নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় বৈধ অস্ত্র জমা নেয়ার কোনো নির্দেশনা দেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুধু অস্ত্র ব্যবহার এবং প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনে প্রতিপক্ষের ওপর বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধ এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। পাঁচজন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে।’
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দেয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার লক্ষ্যে র‌্যাব অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ভোট কেনাবেচা এবং অস্ত্রের ব্যবহার রোধে র‌্যাব কাজ করছে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে ভোটের দিন তিন সিটিতে পাঁচ হাজার র‌্যাব সদস্য কাজ করবে।’