সাভার প্রতিনিধি : ভূমিকম্পে সাভারে পোশাক কারখানার ভবন ধস আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে নামতে গিয়ে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
রোববার দুপুরে সাভার ও আশুলিয়া অন্তত ২০টি পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়াও ঘটনার পর থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো রোববারও শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ ভুমিকম্পে কারখানার ভবন কেপে উঠে। এসময় সাভারের উলাইল এলাকার আল-মুসলিম গার্মেন্টস, রাজাশন এলাকার ভিশন গার্মেন্ট, সাভারের গেন্ডা এলাকার জেকে গার্মেন্টস লিমিটেড, আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার স্কাই লাইন, উইন্ডি গার্মেন্ট, ফরচুন গার্মেন্টস, বাইপাইল এলাকার আনজির এ্যাপারেলস, শাহারিয়া গার্মেন্টস আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকার স্টার লিংঙ্ক ডেনিম লিমিটেডসহ সাভার ও আশুলিয়ার অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকরা তাড়াহুড়া করে বের হতে গিয়ে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে।
তাদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লিপি আক্তার, সুফিয়া, মেহেদি ও সৈকতসহ একাধিক শ্রমিকরা বলেন, ‘ভূমিকম্পে আশুলিয়ার স্টার লিংঙ্ক কারখানার ভবন কেপে উঠলে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে উঠে। এসময় তারা দ্রুত কারখানা থেকে বের হতে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন।’
এদিকে সাভারের রাজাশন এলাকার ভিশন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বলেন, ‘ভূমিকম্পে তাদের কারখানার ভবন কেপে উঠলে সকল শ্রমিকরা বাইরে বের হয়ে স্থানীয় একটি সড়কে অবস্থান নেয়। পরে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার জন্য ভেতরে প্রবেশ করতে বললে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ।
এব্যপারে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আতাউর রহমান বলেন, ‘আশুলিয়ার স্টার লিংঙ্ক ডেনিম কারখানার প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক তাদের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এব্যাপারে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভূমিকম্পে ধস আতঙ্কে বিভিন্ন কারখানার দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়াও যে কোনো অপ্রিতীকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

