নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আগে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান।
শনিবার দুপুরে তেজগাঁও কলেজ গেইট এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের নির্বাচনী সভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার উপর হামলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। আমরাতো তার উপর হামলা দেখিনি। তবে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার উপর হামলা চালাতে পারে। শুনেছি খালেদা জিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা আগে নিরীহ জনগণের উপর গুলি চালিয়েছে। তাই জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চলাতে পারে।’
ফারুক খান বলেন, ‘খালেদা জিয়া সিটি নির্বাচনের প্রচারণা চালানো পূর্বে উচিৎ ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে গিয়ে যারা পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে কাতরাচ্ছে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। এছাড়া ৯২ দিন হরতাল অবরোধে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে উচিৎ ছিল তার জন্য ক্ষমা চাওয়া। এরপর জীবনে কখনও হরতাল অবরোধ দিবেন না এ প্রতিজ্ঞার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারতেন। তাহলে জনগণ হয়ত তার উপর এতো ক্ষিপ্ত হতো না।’
খালেদার প্রচারণা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচন কোনো জাতীয় নির্বাচন নয়। এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা যে প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি তিনি একজন ব্যবসায়ি নেতা ছিলেন। আমরা এখনও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। আর ভবিষ্যতেও করব না। তবে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে নির্বাচন কমিশন তাকে সর্তক করে দিয়েছে। তাছাড়া গতকাল শুক্রবার হুন্ডা গুণ্ডার যে বিশাল বহর নিয়ে তিনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছে তাতেও নির্বাচন কমিশন খালেদা জিয়াকে তিরস্কার করেছে।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোর্টে হাজিরা দিতে যেতে পারে না অথচ নির্বাচনের প্রচারণায় যেতে পারেন।’
আনিসুল হককে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সমর্থিত প্রার্থীকে ঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে আধুনিক ঢাকা গড়ার সহযোগিতা করুন।’
সভায় আনিসুল হক বলেন, ‘আজকে জানতে পেরেছি একটি গণমাধ্যমের জরিপে ঘড়ি মার্কা এগিয়ে রয়েছে। আপনারা আর মাত্র দুইদিন ঘড়ি প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান করুন।’
তিনি বলেন, ‘আপনার ভাবুন, কে মেয়র হওয়ার যোগ্য। কোন প্রার্থীর কাজের অভিজ্ঞতা, সততা, নৈতিকতা আছে। কে ২৯ তারিখ থেকে জনগণের জন্য কাজ করতে পারবে। তাকেই আপনারা মেয়র নির্বাচিত করুন। যদি মনে করেন আমি কাজ করতে পারবো, তাহলে আমাকে ঘড়ি মার্কায় ভোট দিন।’
নির্বাচনে সেনা মোতায়নের প্রয়োজন আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আনিসুল হক বলেন, ‘সেনা মোতায়নের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিবেন।’
খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় এতো বড় শোভযাত্রা বা শো ডাউন ঘড়ি প্রতীকে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া একজন বড় নেত্রী। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আসলে সিটি নির্বাচন একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এতে রাজনৈতিক ফোকাসটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে। আইনে যদি এতোবড় নির্বাচনী শোভাযাত্রা সঠিক না হয় তাহলে সেটা মেনে চলাই ভালো।’
সভায় তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

