নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অভিযোগকে কল্পনাপ্রসূত বলেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আসাদুজ্জামান রিপন। এ সম্পর্কিত কোনো চিঠিও এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে তিনি জানান, ‘এ সম্পর্কিত কোনো চিঠি আমাদের দপ্তরে আসেনি। তবে গণমাধ্যমে জেনেছি অভিযোগ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদি তাই হয় তবে এ অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কল্পনাপ্রসূত।’
তিনি আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং একজন দলীয় প্রধান। তিনি নির্বাচনী প্রচারণা করতেই পারেন। এটা করে তিনি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি।’
এদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে তার দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণামূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ সাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীযয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণা চালানোর কারণে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচারিত সংবাদের মাধ্যমে বিষয়ে এসব জানা যায়। প্রতিনিয়ত প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সে সমস্ত সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০১০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
আচরণবিধির ৬ ধারার প্রচারণা সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ, সভা, সমিতি, অনুষ্ঠানে বিধি-নিষেধ, মিছিল বা শোডাউনে বাধা-নিষেধ, উস্কানিমূলক বক্তব্য ও অনভিপ্রেত গোলযোগ সৃষ্টির বাধা-নিষেধের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব কাজ বিধিমালা পরিপন্থি এবং বিধি ৯ মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি ২০১০ এর বিধিগুলো আপনার অবগত করে নির্বাচনের সুষ্ট পরিবেশের স্বার্থে এরুপ কার্যে থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।’
উল্লেখ, গতকাল শুক্রবার জরুরী ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিধি ভঙ্গের বিষয়টি নজরে এনে রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে তাকে (খালেদা) সতর্ক করতে বলেছে ইসি। ব্যবস্থা গ্রহণের পর তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতেও বলা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা জরুরী ভিত্তিতে বেগম জিয়াকে এ চিঠি দেন।

