নিজস্ব প্রতিবেদক : সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) উদ্দেশ করে বলেন, ‘যদি আপনার ভয় থাকে যে আপনি সরকারের বাহিরে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। তাহলে দয়া করে পদত্যাগ করুন। ইতিহাসে আপনার নাম লেখা থাকবে।’
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত ‘তিন সিটি নির্বাচন: খালেদা জিয়াকে হত্যা প্রচেষ্টা ও সেনা মোতায়েন সম্পর্কে’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের সোনার ছেলেরা ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে আর বলছে আপনারা ভোট কেন্দ্রে গেলে আর ফিরে আসতে পারবেন না।’
মাহাবুব বলেন, ‘আমরা সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেব, এ সরকারের মাধ্যমে স্থানীয় বা যেকোনও নির্বাচনই হোক তা সুষ্ঠু হতে পারে না।’
খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা করায় বিএনপির ভোট যা ছিল তার চেয়ে তিনগুণ বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তিনদিন নির্বাচনী প্রচার কাজে বের হয়েছেন তিনদিনই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারের সমর্থকরা উন্মাদ হয়ে গেছে। আর তাদের এ অগণতান্ত্রিক আচরণের ফলে বিএনপির আগে যা ভোট ছিল তার চেয়ে তিনগুণ বেড়ে গেছে।’
যতই অত্যাচার হোক না কেন আদর্শ ঢাকার নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকবে উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে কেন্দ্রে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে। কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্বের ইতিহাস আমাদের জানা আছে। তাদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।’
সারাদেশের মানুষ নির্বাচনে সেনাবাহিনী চায়। শুধু সরকারের সমর্থনকারী প্রার্থীরাই চায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে হারলে ক্ষমতাশীন দলের অনেক মন্ত্রীর পদ থাকবে না। তাই ক্ষমতাশীনরা জনসম্মুখে বলে বেড়াচ্ছে, কেমন করে নির্বাচনে জিততে হয় তা আমাদের জানা আছে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ নয় তার একটি বড় প্রমাণ হলো, আদর্শ ঢাকা এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে ইসিকে বার বার দেখা করার জন্য চিঠি দেয়া হলেও তার ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করেনি। অথচ সহস্র নাগরিকগণ একটি অবৈধ্য দাবি নিয়ে ইসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছে।’
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, ড্যাবের মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ঢাবির অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

