আসাদ খন্দকার, গাইবান্ধা : সাভারের রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় সাঘাটার শিমুলতাইড় গ্রামের বুলবুলি নিখোঁজ হন। তিনি রানা প্লাজার ৭ তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেডে হেলপার পদে চাকুরী করতেন।
জানা যায়, নিখোঁজ বুলবুলির সৈকত, অন্তর ও আনন্দ নামে তিন সন্তান রয়েছে। মায়ের নিখোঁজের পর এই সন্তাদের ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকার হয়ে পড়ে। এই সন্তানদের বাবা থেকেও নেই। বুলবুলির নিখোঁজের পর তার স্বামী জাহাঙ্গীর ৩ শিশু পুত্রকে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। এই এতিম শিশুদের ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধ নানি জরিনার কুঁড়েঘরে।
বৃদ্ধ জরিনা আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন, খবর নেখে কি হবে? মাইয়াটারে তো আর ফিরে পালাম না। এতিম তিন শিশু নিয়া খুব কষ্টে আছি। সরকার হামার নাতি তিনটার কিছুই কইরলো না। দেখতে দেখতে দুটা বছর কাটে গেল, ক্ষতিপূরণের তেমন কিছুই পালাম না।
সর্বশেষ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার রানা প্লাজার ওই দিনের দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ জন, আহত হয়েছেন আরও ৭ জন, নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ১০ জন।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ বছরে সরকারি ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নেতৃত্বাধীন রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে ৩০-৪০ শতাংশ। নিহত, আহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারের অভিযোগ দুর্ঘটনার ২ বছর কেটে গেলেও পুনর্বাসনের অর্থ সঠিক সময়ে সঠিকভাবে প্রদান করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, নিহত কিংবা নিখোঁজ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে।
নিখোঁজ পরিবারের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিহত, নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের দুর্ঘটনাকালীন আয়, তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য, শ্রমিক পরিবারের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ হিসাবে একজন নিহত শ্রমিকের কমপক্ষে ১০ লাখ, আহত শ্রমিক ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে নিখোঁজ শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ২৮ লাখ করে টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু সাঘাটা উপজেলার নিহত, আহত কিংবা নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের হাতে সেই পরিমাণ টাকা পৌঁছেনি। ফলে তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ প্রসঙ্গে ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকতা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, সরকার যেভাবে নির্দেশ দেবে সে ভাবেই আমাদেরকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, সরকার নির্দেশিত কাগজপত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


