ঢাকাThursday , 23 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়র প্রার্থীদের কাছে বাপা বিআইপি আইএবি’র ১০ দাবি

Link Copied!

DCCনিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের কাছে নগরবাসীর পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামটরের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স (বি.আই.পি), ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ‘ঢাকা শহরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা: মেয়রদের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার তারা নগরবাসীর পক্ষ হয়ে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন। এ সময় মেয়রপ্রার্থীরা নগর ব্যবস্থার পরিবর্তন ও ওয়ার্ড কেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পরিবহন ব্যবস্থা। গণপরিসর, উন্মুক্তস্থান, খেলার মাঠ ইত্যাদি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন। দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। নিরাপদ শহর গড়ে তোলা। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের আবাসনের ব্যবস্থা করা। সারফেস ড্রেনের উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতার উন্নয়ন। দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন। করপোরেশনের অর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। ওয়ার্ডকে সিটি করপোরেশনের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
মতবিনিময় সভায় মেয়র প্রার্থীরা প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নাগরিকরা নগর ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে না নগর ব্যবস্থার কারণেই। তাই নগর ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে ওয়ার্ডকে উন্নয়নের বা কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ‘নাগরিক কমিটি’ করা প্রয়োজন। তা ছাড়া সিটি করপোরেশন অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার উপরও জোর দেন তারা।
এ সময় মেয়র প্রার্থীরা কোন দলীয় বিবেচনা না করে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল বলেন, ‘সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। ঢাকাকে বিকেন্দ্রিকরণ করে প্রাদেশিক সরকার গঠন করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও গণতন্ত্র রক্ষায় এই নির্বাচন।’
মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ বলেন, ‘আগামী ১০০ বছরের জন্য ঢাকার একটি নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ হওয়া প্রয়োজন। ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব কমাতে হবে। নগর ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সকল প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মেট্রোপলিটন সরকার গঠন করতে হবে।’
আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, ‘সংবিধান পরিবর্তন করে মেয়রদের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। মেয়র বানানো হচ্ছে বর্জ্য পরিষ্কারের মেথর হিসেবে। নিউ ইয়র্ক সিটির মতো আমি করতে পারি না? পারি। কিন্তু আমাকে দেবেন না। কাকে দেবেন যে আপনার দলকে টাকা দেবে। যে দলকে টাকা দিতে পারে, মিডিয়াকে ইনফ্লুয়েন্স করতে পারে ও জনগণকে টাকা দিতে পারে তাকে দেবেন।’
আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন বলেন, ‘বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে আমি ৭১ দফা কর্মসূচি দিয়েছি। সেই কর্মসূচিতে আপনাদের সকল প্রস্তাবনা রয়েছে। সিটি করপোরেশনকে নাগরিকদের কাছে প্রাসঙ্গিক করতে হবে। নগরবাসী সিটি করপোরেশনে সেবা নিতে আসে না।’
শেখ শহিদুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন হয়ে গেছে। মিডিয়াগুলো বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে বার বার ডেকে ডেকে অনুষ্ঠান করছে। এ রকম নির্বাচন হলে আমরা নির্বাচন বয়কট করবো। এ রকম নির্বাচন আমরা চাই না। নির্বাচনের সুষ্ঠ কোন পরিবেশ নেই। আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছে কে নির্বাচিত হবেন কে হবেন না।’
অন্য মেয়র প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পান কেন? প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। রাতারাতি ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাচ্ছেন। রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। টাকার বিনিময়ে প্রার্থী হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের অবজ্ঞা করা হচ্ছে। দুনীতির অভিযোগ করা হচ্ছে। কোথায় রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করেছেন? ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে এসে রাজনীতিকে কলুষিত করছে। রাজনীতিবিদদের রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান বলেন, ‘যানজট নিরসন, ফরমালিন মুক্ত, প্রতি ওয়ার্ডে হাসপাতাল ও মশামুক্ত আধুনিক নগরী গড়ে তোলা হবে। প্রতি ওয়ার্ডের জনগণের দ্বারা ওয়ার্ড উন্নয়ন নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। যারা ওয়ার্ডের উন্নয়ন তদারকি করবেন।’
আবু নাছের মুহাম্মদ মাসুদ হোসাইন আলকাদেরী বলেন, ‘দলীয় বিবেচনায় নয় বিবেকের তাড়নায় আমরা যদি একজন যোগ্য ব্যক্তিকে মেয়র বানাতে পারি তা হলেই দুর্নীতিমুক্ত নগরভবন গড়তে পারবো। আমরা যদি নাগরিকদের নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক কমিটি গঠন করি তাহলে সঠিকভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’
বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, ‘ভাড়াটিয়াদের অধিকার আদায়ে আমি দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে আসছি। ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষাই হবে আমার প্রথম কাজ। এ ছাড়াও আমি আজকের এই মতবিনিময় সভার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করছি।’
মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সাধারণ সম্পাদক আকতার মাহমুদ।