ঢাকাWednesday , 22 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উন্নত কৃষি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প

Link Copied!

বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত জেলা সেমিনারে  বক্তব্য রাখছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক যুগ্ম সচিব মোঃ মাহবুব আহমেদ

বাগেরহাটের সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত জেলা সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. মাহবুব আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণের ৩ জেলা পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের কৃষি বিপণন ও কৃষি ব্যবসা উন্নয়নসহ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপণন অঙ্গ। প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে এই তিন জেলায় কৃষক মার্কেটিং গ্রুপ গঠন, শস্য সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণ, এসেম্বল সেন্টার স্থাপন, উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ, সার্ভে, সেমিনার, ওয়ার্কশপের মাধ্যমে উৎপাদক এবং ভোক্তা শ্রেণীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন, ফসল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত সার্ভেসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে এই তিন জেলার কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের সংগ্রহোত্তর অপচয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সেইসাথে এসব ফসলের বিপণন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে কৃষি বিপণন ব্যবস্থার দক্ষতা বেড়েছে। প্রকল্পটির প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা টার্মিনাল ও রপ্তানি বাজারের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। এর পাশাপাশি কৃষি বিপণন সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের আয় বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে নারীদের কৃষি ও কৃষি ব্যবসায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও এই প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে প্রকল্প এলাকার কৃষক ও সুবিধাভোগীদের পুষ্টিমানেরও  উন্নয়ন ঘটেছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কৃষি পণ্যের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রকল্প পরিচালক প্রণব কুমার রায়

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কৃষি পণ্যের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রকল্প পরিচালক প্রণব কুমার রায়

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পভুক্ত এলাকায় কৃষি পণ্যের চাহিদা ও যোগান নিরুপণ, মজুত ও মূল্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও অত্যাবশ্যকীয় কৃষি পণ্যের মূল্য ধারার আগাম প্রক্ষেপণ এবং এ বিষয়ক তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রচারে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কৃষি বাজারের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও কাজ চলছে। পাশাপাশি কৃষি ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষক  ও ব্যবসায়ীদের কৃষি পণ্যের সর্টিং, গ্রেডিং, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি পণ্যের মূল্য সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের জন্য প্রকল্প এলাকায় ২১০টি কৃষক মার্কেটিং গ্রুপ গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শস্য সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপর প্রশিক্ষণ প্রদানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্প এলাকার ৬টি উপজেলায় ৭২০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ৬টি এসেম্বল সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। তিন জেলায় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশর অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র পুরাতন ৩টি গোডাউন সংস্কার করে kMFK মডেল এ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলতি বছরের জুন মাসেই সম্পন্ন হবে। প্রকল্প এলাকায় মোট ৫০টি উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই-২০১২ সালে শুরু এ প্রকল্পটির কার্যক্রম জুন-২০১৭ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৩-১৪) প্রতি দলে ১০জন করে মোট ১১০টি কৃষক বিপণন দল এবং চলতি অর্থবছরে (২০১৪-১৫) আরো ১০০টি দল গঠন করা হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রতি ব্যাচে ৫০জন করে ৯টি ব্যাচে মোট ৪৫০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন করে ২৫ ব্যাচ কৃষক (১২৫০ জন) প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যার মধ্যে ১৬টি ব্যাচে ৮০০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত অর্থবছরে ৩০জন প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্যাচ প্রতি ৪০জন করে মোট ১৪টি মোটিভেশনাল ট্যুরের আয়োজন করা হয়েছে। ৬টি এসেম্বল সেন্টারের মধ্যে ৩টির স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত হয়েছে, আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। বেজ লাইন সার্ভের কার্যক্রম বর্তমানে মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে যা আগামী জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে প্রকল্প সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ১টি জাতীয় কর্মশালা, ৪টি জেলা কর্মশালা ও ৩টি কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩টি সেমিনার/ওয়ার্কশপ, ৪৮ ব্যাচ কৃষক প্রশিক্ষণ, ১৪টি মোটিভেশনাল ট্যুর ও ১টি সার্ভে পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রণব কুমার রায় দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পাইলটিং এ প্রকল্পটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে; ইতোমধ্যে এ এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিপণনে দক্ষতা অর্জন করেছে। সরাসরি বাজারের সাথে সংযোগের ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাহবুব আহমেদ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি; এখন আধুনিক কৃষি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের অপচয় রোধ ও ন্যায্যমূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের সচেতন ও সংগঠিত করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে সমন্বিতভাবে ফসল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করেছ পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পটি। এ সময় তিনি আরো বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের প্রায় ৩০-৩৫ ভাগ নষ্ট ও অপচয় হয় শুধুমাত্র দক্ষ ও সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থার অভাবে। এ ছাড়া সরাসরি বাজারের সাথে সংযোগের অভাবে কৃষক বঞ্চিত হন ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে। এ প্রকল্পটির বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় কৃষকরা আধুনিক ও দক্ষ বাজার ব্যবস্থায় অভ্যস্থ হচ্ছে বলে জানান তিনি। কৃষকরা সরাসরি বাজারের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে; তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে বলেও জানান মাহবুব আহমেদ।