ঢাকাWednesday , 22 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশুলিয়ায় ফিল্মি স্টাইলে ব্যাংক
ডাকাতি, নিহত ৮, আহত ১৭

Link Copied!

মঙ্গলবার আশুলিয়ায় কাঠগড়া বাজার এলাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতের গুলিতে ৮ জন নিহত হয়েছে। ডাকাতির পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা-পাঞ্জেরী

আশুলিয়ায় কাঠগড়া বাজার এলাকায় ব্যাংকে ডাকাতের গুলিতে ৮ জন নিহত হয়েছে। ডাকাতির পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা -পাঞ্জেরী

আবুল হায়াত বাচ্চু, সাভার : সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ফিল্মি স্টাইলে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায় দিনে দুপুরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের ছোড়া বোমা-গুলিতে ব্যাংক কর্মকর্তা, নিরপত্তারক্ষী ও এলাকাবাসীসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও ১৭ জন। আহতদের সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
নিহতরা হলেন- ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ, নিরাপত্তাকর্মী বদরুল আলম, কাঠগড়া এলাকার ব্যবসায়ী মনির হোসেন, ব্যাংকের গ্রাহক পলাশ ও ওয়ার্কসপ মালিক জিল্লুর রহমান। অপর নিহত ব্যক্তি ডাকাত বলে জানা যায়। তবে নিহত ডাকাতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, এনাম মেডিকেলে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় জমির আলী ও নূর মোহাম্মদ নামে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলযোগে ১০-১২ জনের একদল ডাকাত ঐ ব্যাংকে প্রবেশ করে। এ সময় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ব্যাংকের ম্যানেজারসহ কর্মকর্তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। একপর্যায়ে বোমা-গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লুটপাট চালায়। তাদের বেপরোয়া গুলি ও বোমায় ঘটনাস্থলেই মারা যান শাখা ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ ও নিরাপত্তাকর্মী বদরুল আলম। ব্যাংকে ডাকাতির বিষয়টি আশপাশের ব্যবসায়ীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা বাজার মসজিদ থেকে মাইকিং করে। এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ডাকাতদের ঘিরে ফেলে। এ সময় ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময় ডাকাদের ছোড়া গুলিতে ব্যাংকের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মুদি দোকানদার মনির হোসেন, পলাশ ও জিল্লুর রহমান। পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে ডাকাত দলের এক সদস্য আটক হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই ঐ ডাকাত সদস্যের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাতবোমা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন।
আহতরা হলেন- পারভেজ, জামির, আয়ূব আলী, নূর মোহাম্মদ, শফিউল ইসলাম, শাহাজাহান আলী, শফিউল, রমজান, শাজাহান, আমিনূল, আয়ূব আলী, শফিউল, হামিদ আলী, শাহাদাত, রফিক, আব্দুল সালাম। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর ব্যাংকের আশপাশে বেশ কয়েকটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি লাল রঙের ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় ডাকাত দের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। তবে কি পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে খোয়া গেছে তা নিশ্চিত করতে পারিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ বিশমাইল-জিরাবো সংযোগ সড়ক, আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাাশি শুরু করে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে এরইমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৫২ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।