ঢাকাSunday , 19 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশের পূর্বাঞ্চলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)

Link Copied!

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার খোশঘর খালে পানি প্রবাহের দৃশ্য

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার খোশঘর খালে পানি প্রবাহের দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পূর্বাঞ্চলে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে ‘পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র আওতাধীন এই প্রকল্পটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৭৬টি উপজেলায় বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টি ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, প্রকল্পটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং এর ফলে অন্তত অতিরিক্ত ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরো জানিয়েছেন, জানুয়ারি-২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রকল্পটি জুন-২০১৭ সালে সমাপ্ত হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ২৪০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননসহ ২২৮টি সেচ অবকাঠামো নির্মাণ এবং ৩০ কিলোমিটার মাটির বাঁধ নির্মাণ। এর পাশাপাশি ৫০০টি ফিল্ড আউট লেট নির্মাণসহ ১৫টি ২কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপ (৩২০মিটার) স্থাপন এবং ৪৫টি ২কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপ (১২০মিটার) স্থাপন করা হবে প্রকল্পটির মাধ্যমে। এ ছাড়া ৭০টি ৫ কিউসেক এলএলপি, ৭৭টি ২কিউসেক এলএলপি, ৫০টি ১কিউসেক এলএলপি এবং ৩টি এক্সিয়েল ফ্লু পাম্প সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার মিটার ভূপরিস্থ পাকা সেচনালা এবং ১ লাখ মিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা (বারিড পাইপ) নির্মাণসহ ৭০ হাজার মিটার ফিতা পাইপ সংগ্রহ করা হবে প্রকল্পটির মাধ্যমে।

বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননসহ ৭৮টি সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ৫ কিলোমিটার  ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ১৫০টি ফিল্ড আউট লেট নির্মাণ করা হয়েছে। একই অর্থবছরে ১২০ মিটার গভীরতার ২১টি ২কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার কুকুরমারা সাতছড়া খালে হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার

চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার কুকুরমারা সাতছড়া খালে হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ৮০টি সেচ অবকাঠামো, ৭ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ, ১৫০টি ফিল্ড আউট লেট নির্মাণ, ১২০ মিটার গভীরতায় ১৮টি ২কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপ স্থাপন, ৩২০মিটার গভীরতায় ২কিউসেক ১৩টি ফোর্সমোড নলকূপ, ৩৩টি ২কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপের ইউপিভিসি বারিড পাইপ ও ১০টি ৫কিউসেক এলএলপি’র ইউপিভিসি বারিড পাইপ, ১২টি ২কিউসেক এলএলপি’র বারিড পাইপ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব কার্যক্রমের মধ্যে গত মার্চ পর্যন্ত ৮১ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটির মাধ্যমে সেচযন্ত্র মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জুন-২০১৪ পর্যন্ত ২৪০ জন মালিক, ম্যানেজার, চালক ও ফিল্ডম্যানদের সেচযন্ত্র মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ৫১০ জন কৃষককে সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭২০জন কৃষককে সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্প এলাকায় খাল পুনঃখনন করে খালের পাড় বাঁধার ফলে মাঠ ফসলের পরিচর্যা, কৃষি যন্ত্রপাতি পরিবহণসহ উৎপাদিত শস্য সংগ্রহ ও পরিবহন কাজে নতুন রাস্তার সৃষ্টি হয়েছে। সেচ প্রকল্পগুলো বিদ্যুতায়িত হওয়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। তারা আরো বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমরে ফলে এলাকায় অতিরিক্ত ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকার জনগনের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে এবং দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত কুমিল্লা বিএডিসি কমপ্লেক্সে রেস্ট হাউজ

প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত কুমিল্লা বিএডিসি কমপ্লেক্সে রেস্ট হাউজ

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব মুনীর বলেন, বিপুল পরিমাণ ভূপরিস্থ পানিসমৃদ্ধ বাংলাদেশে সেচকাজে মাত্র ২৫ ভাগ ভূপরিস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। ভূপরিস্থ পানির লাগসই ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলে সেচ কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ বর্তমানে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নাব্যতা হারানো নদী, খাল-নালা পুনঃখননের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভূপরিস্থ পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরো দৃঢ় হবে এবং সেচ কাজে এ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের উপর চাপ কমবে এবং কৃষি আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়া রোধ হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। তিনি বলেন, দেশের পূর্বাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ ও ভূপরিস্থ পানি সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প।