ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ত্রিশালে কালবৈশাখীর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে ঘরের ভেতরে থাকা ইলিয়াস আলী (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা। বোরো ধান নুয়ে পড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শুরুর হওয়া ঝড়ে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নিহত ইলিয়াস আলী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামের আব্দুস সালাম বেপারীর ছেলে। এ সময় শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি। মারা গেছে ৪টি গরু। শুধু তাই নয়, ঝড়ের কবলে পড়ে রাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। ফলে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী জানায়, শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কাল বৈশাখীর ঝড় শুরু হয়। প্রচন্ড ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার সাখুয়া, রামপুর, বৈলর, বালিপাড়া, কানিহারী ও ত্রিশাল ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। ঝড় ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া, বাগান, সতেরপাড়া চিকনা, ছলিমপুর, সাখুয়া, রামপুর ইউনিয়নের চকরামপর, বীররামপুর, গফাকুড়ি, দরিল্যা, কাকচর, বৈলর ইউনিয়নের চরপাড়া, বড়পুকুরপাড়, বকশীপাড়া, হদ্দেরভিটা, মুন্সীপাড়া, কানহর, উকিলবাড়ী, দেওয়ানিয়াবাড়ি, কাজিরশিমলা, বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা, চরমাদাখালি, বিয়ারা, ইছামতি, নতুন চর, ঢাকের চর, কানিহারী ইউনিয়নের সেনবাড়ী, আহাম্মদাবাদ, কুষ্টিয়া ১ম খণ্ড, ২য়খণ্ড, কালিরবাজার, বালিদিয়া এলাকায় আঘাত হানে।
সেখানকার বাড়িঘর, গাছপালা, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ লণ্ডভণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নওপাড়া এলাকায় ২টি গরু, হরিরামপুর গ্রামে ৪টি গরু মারা যায়। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে ঘরের উপর বাজ পড়ে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামে ইলিয়াস আলী (৪০) নামের ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয় আরও ১০জন। বিভিন্ন স্থানে আরও ৯০ জন আহত হয়। তদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ে চকরামপুর ফাজিল মাদরাসা, চ্যাম্পিয়ন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন, বৈলর বাহরুলুল উলুম নোমানিয়া এতিমখানা, পলাশতলী নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা, পলাশতলী জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সদর ইউনিয়নের চক পাঁচপাড়া গ্রামের শাহ সূফি একিন আলী ফুরকানীয়া মাদরাসা, দরিরামপুর মেদারপাড় নূরানিয়া মাদরাসা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এ ঝড়ে উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোজাহারুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নগত ১০ হাজার টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে।
আবাসিক প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন জানান, কালবৈশাখীর থাবায় ত্রিশালের বিদ্যুত ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। লাইন মেরামতের জন্য জোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। রাতের যে কোনো সময় পৌর এলাকা ও পর্যায়ক্রমে সকল লাইনগুলো মেরামত করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবব হাসান শাহীন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঝড়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সড়ক ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

