চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য ফের সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
শনিবার দুপুরে নগরীর মেহেদীবাগস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় যেভাবে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে তাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। এভাবে চলতে থাকলে ও সেনা মোতায়েন না হলে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দিপনা থাকবে না। বাধার কারণে নেতাকর্মীরা গণসংযোগও করতে পারছে না। এজন্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছি।’
এতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও মন্ত্রীদের নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কেন বার বার চট্টগ্রামে আসছেন প্রশ্ন তুলে আমীর খসরু বলেন, ‘পুলিশকে বার বার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এছাড়া মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘন ঘন চট্টগ্রাম সফর করছেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে বক্তব্য রাখছেন। গতকাল শুক্রবারও প্রেস ক্লাবে তিনি নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।’
নগরীর ২নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘নগরীর বাইরে থেকে ভাড়ায় সন্ত্রাসী আনা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচার কাজ চালানোর সময় মনজুর আলমের সমর্থক কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং মনজুরের পক্ষে কেউ কাজ করলে তাদেরও দেখে নেবার হুমকি দিচ্ছে।’
২০দলীয় জোটের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে বাধা প্রদানের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আমীর থসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীরা আরো বেপরোয়া ও উৎসাহিত হয়ে বারবার শান্তিশৃংখলা ও সুষ্ঠু নির্বাচনবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবুর রহমান শামীম, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সহ সভাপতি শামসুল আলম প্রমুখ।

