ঢাকাFriday , 17 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতীয় গরু-মহিষ আসা বন্ধ

Link Copied!

কদিন আগেও যেসব গোঁজে ঠাসাঠাসি করে গরু-মহিষ রাখতে দেখা গেছে সেগুলোর সবই এখন ফাঁকা

কদিন আগেও যেসব গোঁজে ঠাসাঠাসি করে গরু-মহিষ রাখতে দেখা গেছে সেগুলোর সবই এখন ফাঁকা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : বৈধ বা অবৈধ দু’পথেই বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশে ভারতীয় গরু-মহিষ আসা। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার কারণেই গত কয়েক মাস ধরে সীমান্ত পথে এপারে আসতে পারছে না গরু-মহিষ। এ কারণে বাংলাদেশে বেড়ে গেছে গরুর মাংসের দাম। অঞ্চল ভেদে কেজি প্রতি বেড়েছে ২০ টাকা থেকে একশ টাকা পর্যন্ত।
ভারত থেকে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে গরু মহিষ আসার সবচেয়ে বড় দুটি রুট রয়েঝে চুয়াডাঙ্গায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় রুট দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্ত।
মাস তিনেক আগে মুন্সিপুর গ্রাম ঘুরে যাওয়া কেউ এখন এলে বুঝতে পারবেন ভারতীয় অংশের কাদাপানিতে ভরা মেঠোপথের চেহারা আর আগের মতো নেই। বর্তমানের সমতল অবস্থা দেখেই মনে হয় এ পথে গরু-মহিষ আসা বন্ধ রয়েছে।
সরেজমেন মুন্সিপুরে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় নেই আগের মতো গরু-মহিষ। সীমান্তের ওপার থেকে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি গরু মহিষ এসেছে এপারে। এ সীমান্ত পথের বেশ কিছু অংশে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সুযোগ নেয় ব্যবসায়ীরা। কয়েক বছর ধরেই ভারত থেকে বৈধ-অবৈধ পথে প্রচুর গরু-মহিষ এ গ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যেত। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে এ পথে পশু আসার সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়ে যায়। গ্রামে ঢোকার মুখ থেকে শুরু করে প্রায় শূন্যরেখা পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বসতো গরু-মহিষের হাট।
স্থানীয় ভাষায় পশু জড়ো করার একেকটি স্থানকে বলা হয় গোঁজ। কদিন আগেও যেসব গোঁজে ঠাসাঠাসি করে গরু-মহিষ রাখতে দেখা গেছে সেগুলোর সবই এখন ফাঁকা। অনেকটা হঠাৎ করেই ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে রাখাল থেকে শুরু করে গোঁজ মালিক এবং পাইকারী ব্যবসায়ীরা।
তবে ওপার থেকে গরু মহিষ আসা বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে তেমন জানেন না মুন্সিপুরের ব্যবসায়ীরা। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিএসএফ নাকি ওপার থেকে গরু আনতে দিচ্ছে না। কয়েকদিন আগে ২৭টি গরুসহ পাঁচ ভারতীয় রাখাল বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছে বলে জানালো বাংলাদেশি এক রাখাল। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই গরু আসা আটকে দিচ্ছে বিএসএফ। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দু চারটে পশু এপারে মুন্সিপুর এলে দাম হাঁকা হচ্ছে আকাশ ছোঁয়া ।
ওপর থেকে গবাদী পশু বাংলাদেশে নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় এ করিডোরে গরু-মহিষ আসা কমে যাওয়ায় পেটের তাগিদে অনেকেই বিকল্প পথে ঝুঁকে পড়ছেন। কেউ ফেন্সিডিল চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। ক্রেতার অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে কয়েকটি হোটেল ও রেঁস্তরা।
আলমডাঙ্গার কৃষক জামাত আলী কমদামে এক জোড়া হালের বলদ কেনার জন্য এসেছিলেন মুন্সিপুর গ্রামে। ঘণ্টা তিনেক মুন্সিপুর-ঠাকুরপুর ঘুরে তাকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।
যে কারণে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ: গ্রামবাসী ও গরু ব্যবসায়ীরা জানান, মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে গরু আসতে বাধা দিচ্ছে বিএসএফ সদস্যরা। ভারতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় কথিত গরু পাচার ঠেকাতে বিএসএফ সদস্যরা এ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। প্রধান এ কারণেই গত তিন মাসে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় করিডোর দামুড়হুদার মুন্সিপুর দিয়ে গরু-মহিষ আসা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
অপরদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গত ১ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের বাংলাদেশ ঘেঁষা বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে গরু পাচার রোধে বিএসএফকে কড়া নির্দেশ দিয়ে যান। মন্ত্রীর নির্দেশের পরেই হঠাৎ করে কমে গেছে গরু আসার সংখ্যা। আর বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীরা অল্প যে কয়েকটি গরু-মহিষ বাংলাদেশের বাজারে আনছেন তার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একারণে স্থানীয় বাজারে বেড়ে গেছে গরুর মাংসের দাম। মাস দুয়েক আগেও চুয়াডাঙ্গায় গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিনশ থেকে তিনশ ৮০ টাকায়।
এ ব্যাপারে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান (বিজিবিএম) বাংলামেইলকে বলেন, বিএসএফের কাছে বরাবরই গরু আসা অবৈধ ছিল। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কোন উপায়ে এতদিন বাংলাদেশে গরু পাঠিয়েছে তা তারাই ভালো বলতে পারবে।
অভিজ্ঞদের মতামত, বাংলাদেশে ভারতীয় গরু না ঢুকলে প্রাথমিকভাবে হয়তো কিছুটা অসুবিধা হবে। তাই বলে বসে থাকলে চলবে না। আমিষের ঘাটতি পোষাতে গরুর মাংসের দাম কমানোসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে এখনই সময় এসেছে স্থানীয় খামারীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারিতে আনা।