ফেনী প্রতিনিধি : সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য শুরু করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এ সময় তার ছবি তুলতে যান স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক। হাতে ক্যামের দেখেই তার ব্যবহৃত লাঠি দিয়ে ওই সাংবাদিককে মারতে উদ্ধত হন তিনি। ফলে ওই সাংবাদিক আর ছবি তুলতে পারেন নি। ছবি তোলা বাদ দিয়ে তড়িঘড়ি করে তার আসনে বসে রক্ষা পান তিনি।
এমনই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সকালে ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে হেফাজতে ইসলামের শানে রেসালাত সম্মেলনে।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শফী বলেন, ‘বৈশাখী মেলার মতো নারীদের পড়া-লেখা করার দরকার নেই। নারীদের আলাদাভাবে পড়া-লেখা করতে হবে। কলেজ-ভার্সিটি আলাদা হওয়া দরকার। ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে পড়া-লেখা থেকে সাবধান। নারীদের কর্মস্থল, শিক্ষার স্থানও আলাদা হওয়া দরকার।’
হেফাজতে ইসলামকে সম্মেলন করতে দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেইসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকী হজের বিরুদ্ধে কথা বলায় তার সমালোচনা করেন।
মাওলানা নুর উল্যাহ মুছাপুরির সভাপতিত্বে শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম শুধু ইসলামের হেফাজত করছে। অন্য কিছু আমাদের উদ্দেশ্য নয়।’
অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচির হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘বৈশাখী মেলায় নারীদের উলঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রীর সম্মান নষ্ট করেছে। কারণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী। নারীদের সম্মানহানী আমরা সহ্য করবোনা। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যতদিন বেঁচে থাকি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাস্তিক্যবাদের আড্ডাখানা। আমরা জঙ্গি নই, যারা আমাদের জঙ্গি বলে তারাই জঙ্গি। এগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- হেফাজতে ইসলামের ফেনী জেলা সমন্বয়কারী মাওলানা রুহুল আমীন, মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, মুফতি মাওলানা ফারুক আহমদ, মুফতি আবুল কালাম, মাওলানা শিব্বির আহম্মদ, মাওলানা আবদুল হাই প্রমুখ।
এদিকে পেশগত দায়িত্বপালনের সময় সাংবাদিককে মারতে উদ্ধত হওয়ার বিষয়ে সম্মেলনে শেষে উপস্থাপক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছবি তোলা শরিয়ত বিরোধী হওয়ায় হুজুর নারাজ হয়েছেন।’

