চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই বলে বেড়ান মনজুর আলম নাকি সৎ মানুষ। একটা উদাহরণ দিলেই তার সততা কতটুকু সেটা বুঝা যাবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রার্ক টার্মিনাল করার জন্য ১১৭ কোটি টাকা দিয়েছিল। সেই টাকায় মনজুর টার্মিনাল করেননি, এই টাকা কোথায় গেল? এ্ই টাকা কি তিনি আত্মসাৎ করেছেন? এটাই কি মনজুর আলমের সততা?’
শুক্রবার দিনভর নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে গণসংযোগকালে হাছান মাহমুদ এ অভিযোগ করেন।
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে মনজুর আলম সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তার ব্যর্থতায় এখন প্রবর্তক মোড়ের মতো এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই বলছেন নদীর নাম প্রবর্তক মোড়, পানি উঠে এক কোমর। মনজুর আলমের ব্যর্থতায় নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তিনি আবার মেয়র হলে আন্দরকিল্লার মতো উঁচু এলাকায়ও পানি উঠবে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মনজুর আলম পানিতে যেমন ডোবাবেন তেমনি সারা শহরে দুর্গন্ধের কারণে নাকে রুমাল দিয়ে চলতে হবে। সুতরাং মনজুরের হাত থেকে শহরকে রক্ষা করতে হলে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে হাতী মার্কায় ভোট দিন। নাছির বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোনীত করেছেন। তাই নাছির নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হবে, এখানকার সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে। জলাবদ্ধতায় আর ডুবতে হবে না, নাকে রুমাল দিয়ে হাঁটতে হবে না।’
মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পাথরঘাটা মধুবেপারি জামে মসজিদ কবরস্থান জিয়ারত করে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি পাথরঘাটা নজুমিয়া লেইন, ব্রিকফ্রিল্ড রোড, আশরাফ আলী রোড, শামসুল হুদা মিয়া লেইন, ওমর আলী মার্কেট, ফিশারি ঘাট, ইকবাল রোড, বংশাল রোর্ড, গঙ্গাবাড়ি, জলিলগঞ্জ, মনোহরখালী, বান্ডেল রোড এলাকায় গণসংযোগ করেন।
পরে আ জ ম নাছির উদ্দীন টাইগারপাস কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। জুমার নামাজের পর তিনি আমবাগান, ঝাউতলা রেলওয়ে কলোনি, ঝাউতলা বাজার, ওয়্যারলেস কলোনি, পশ্চিম খুলশী আবাসিক এলাকা, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটিং এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এ সময় আ জ ম নাছির উদ্দীন এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নগরকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত এলাকাগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে। যতযত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকে, দুর্গন্ধের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে নগরবাসী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গত ৫ বছর মেয়র থাকা মনজুর আলম এসব এলাকার খবর একবারও নেননি, তিনি করপোরেশনের সুবিধা নিয়ে নিজের আখের গোছিয়েছেন, আর নগরবাসী দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আপনারা আমাকে একবার ভোট দিন, আমি দলমতের উর্ধ্বে উঠে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবো। আপনাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে আমি এলাকায় ঘুরে ঘুরে যেসব সমস্যা দেখবো সবই সমাধান করে দেবো ইনশাআল্লাহ।’
ড. হাছান মাহমুদ এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ৩৭-৩৮ বছর ধরে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে চিনি, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখেন, প্রতি রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন। এ রকম একটি ধার্মিক পরিবারের সন্তান আপনাদের যে ওয়াদা দিচ্ছেন তা বরখেলাপ করবেন না। তিনি নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের চেহারাই বদলে যাবে। আপনারা তাকে হাতী মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।’
গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন সাথে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, অ্যাডভোকেট চন্দন বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটন, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, জালাল উদ্দিন ইকবাল, মান্না বিশ্বাস, কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনছুরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

