ঢাকাFriday , 17 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝাড়ুয়ারবিল-পদ্মপুকুর গণহত্যা দিবস
আজাহারের নির্মমতার কথা ভোলেনি তারা

Link Copied!

Rangpur-Jharuaরংপুর প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও বদরগঞ্জের মানুষ এটিএম আজাহার ইসলামের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় ভয়ংকর দিনটি কথা ভুলতে পারেনি।
আজ ১৭ এপ্রিল। ঝাড়ুয়ারবিল-পদ্মপুকুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আজকের এদিনে রংপুরের বদরগঞ্জে ঝাড়ুয়ারবিল পদ্মপুকুর পাড়ে নির্মমভাবে ১২শ নিরস্ত্র লোককে হত্যা করে হিস্র পাকিস্তানি সেনারা। তাদের এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্বের সহযোগী হিসেবে অংশ নেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে এদিন রামনাথপুর ও বিষ্ণুপুরে বাড়ি বাড়ি অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলে।
এদিন পাকিস্তানি হানাদাররা দু’টি ট্রেনে চড়ে রামনাথপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া ও কিসমত ঘাটাবিল এলাকার ঝাকুয়াপাড়ায় অবস্থান নেন। এরপর তৎকালীন ছাত্রনেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে রামনাথপুর ও বিষ্ণুপুরে চলে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটপাট আর রক্তের স্রোতে হত্যাযজ্ঞের মহড়া।
নির্মম মৃত্যুর ছোবল থেকে যারা বেঁচে যান। তাদের অনেকেই প্রাণভয়ে আশ্রয় নেন ঝাড়ুয়ারবিল পদ্মপুকুর পাড়ে। কিন্তু রাজাকাররা ঝাড়ুয়ারবিল পদ্মপুকুর পাড়ে সাধারণ মানুষের আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে পাকিস্তানি সৈন্যদের পাঠিয়ে দেন। এরপর হানাদাররা সেখানে গিয়ে সারিবদ্ধভাবে সবাইকে দাঁড় করায়। কারো প্রাণের আকুতি না শুনে নির্মমভাবে এলোপাতারি গুলি করে হত্যা করে। সেই থেকে এ দিনটি রংপুরে ‘ঝাড়ুয়ারবিল-পদ্মপুকুর গণহত্যা দিবস’ হিসেবেই পালন করা হয়ে আসছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানান পেশার মানুষ দিবসটি শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলসহ যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে পালন করবে। স্মরণ করবে জাতির সেইসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যাদের রক্তে এখনো নিভৃতে কাঁদছে বাংলাদেশ।
আজকের এই দিনের স্মৃতিচারণ করেন মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটিএম আজহারুলের মামলার সাক্ষী অধ্যাপক মেছের উদ্দিন বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকলে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এটিএম আজহারকে দেখা যায়। আজহার সেইদিন সাদা প্যান্ট-শার্ট পরে এসেছিল।’
তিনি বলেন, ‘১৭ এপ্রিল ঝাড়ুয়ারবিল পদ্মপুকুর পাড়ে ১২শ লোককে হত্যা করা হয়। এটিএম আজহার ইসলামসহ পাকিস্তানি বাহিনী বদরগঞ্জ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেন। সে সময় তারা স্থানীয় জগদীশ নামে এক হিন্দুর বাড়ি দখল করে সেখানে শান্তি কমিটির অফিস খুলে এবং রাজাকারদের নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন করে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালেব সরকার বলেন, ‘বদরগঞ্জে ঝাড়–য়ারবিল পদ্মপুকুর পাড়ের নির্মমতার সেদিনের শহীদদের স্মরণে ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সেখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী সেখানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ না থাকায় এখনো স্মৃতিসৌধটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।’
এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘স্মৃতিসৌধের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রাস্তা উন্নয়নের কাজ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’
অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরী জানান, রাস্তার উন্নয়নে এলজিইডিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ মেলেনি। বরাদ্দ পেতে আগামী দিনগুলোতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।’ একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে বলে জানান তিনি।