তরুণ বয়সে টাইপ টু ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়া রোগীদের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সঠিক জীবনযাপন প্রণালি অনুসরণ করলে এই রোগ থেকে পুরোপুরি উপশম বা রেমিশন লাভ করা সম্ভব। সাধারণত বয়স্কদের এই রোগ বেশি আক্রান্ত করলেও বর্তমানে তরুণরাও এর শিকার হচ্ছেন। তবে নতুন এই গবেষণার ফলাফল চিকিৎসকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
গবেষণাটিতে অংশ নেওয়া রোগীদের সুনির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কঠোরভাবে এই নিয়মগুলো মেনে চলার ফলে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ৫৪ শতাংশ রোগীর শরীরে ডায়াবেটিসের লক্ষণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চিকিৎসকদের মতে, তরুণ বয়সে শরীরের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক সক্রিয় থাকায় সঠিক পদক্ষেপ নিলে রোগটি নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টাইপ টু ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যাভ্যাস থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় বাদ দিয়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই গবেষণায়। এর পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে জাদুকরি ভূমিকা পালন করেছে।
এই গবেষণার সফলতা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস চিকিৎসার দিকনির্দেশনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা আশা করছেন, তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের ব্যবহার কমিয়ে বা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে রোগীদের আজীবন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

