ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির প্রধান আরব দলগুলোর জোরালো অবস্থান এবং ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেডিক্যাল ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বামপন্থী জয়েন্ট লিস্ট এবং রক্ষণশীল ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রাআম পার্লামেন্টে নিজেদের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে। দীর্ঘকাল ধরে প্রান্তিক থাকা এই দলগুলোর এমন অভাবনীয় সাফল্য ইসরায়েলের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
নির্বাচনে আরব ভোটারদের এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের মূল কারণ বর্তমান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, সামাজিক বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে। তাছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আরববিদ্বেষী বক্তব্য এই জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলস্বরূপ, অতীতে ভোটদানে অনীহা প্রকাশ করা অনেক আরব নাগরিক এবার পরিবর্তনের আশায় দলে দলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।
রাআম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস এই নির্বাচনী সাফল্যকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের হতাশা ও নিরাশার বিরুদ্ধে এক বড় জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসনের পতন ঘটানো এবং একটি নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনই তাঁদের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। এর আগে ২০২১ সালেও নাফতালি বেনেটের নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে অংশ নিয়েছিল রাআম, যা প্রমাণ করে যে দেশের সরকার গঠনে এই দলগুলোর কিংমেকার হয়ে ওঠার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। তবে ইহুদি রাজনীতিকদের একটি বড় অংশ এখনও আরব দলগুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক নির্ভরতার বিরোধী।
এদিকে, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল এখনো প্রকাশিত না হলেও বুথফেরত জরিপের এই আভাস ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী জোট সরকার এখন ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। সাধারণ আরব ভোটাররাও মনে করছেন যে তাদের এই সম্মিলিত রায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোটের সাথে আরব দলগুলোর বোঝাপড়া কেমন হয় এবং তা নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ কতটা সুগম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

