তৈরি পোশাক শিল্প খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ দ্রুত নিরসন এবং কারখানায় স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি ও নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী বলেন যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মজুরি বোর্ড নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রকৃত শ্রমিক নন, বরং নিজেদের শ্রমিক নেতা পরিচয় দিয়ে একটি চক্র শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের মালিকপক্ষ, প্রকৃত শ্রমিক এবং সচেতন রাজনৈতিক নেতারা এই চক্রান্ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধির তালিকা হাতে পাওয়া গেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
কারখানা মালিকদের সতর্ক করে মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ৭ তারিখের মধ্যেই শ্রমিকদের বকেয়া ও চলতি মাসের নিয়মিত মজুরি পরিশোধ করতে হবে। পোশাক খাতের সার্বিক সমস্যা সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সভায় একটি বিশেষ সমন্বিত মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই সেল গঠিত হবে। কারখানায় যেকোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা না করে এই সেলে জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে পোশাক খাতের সকল সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

