ঢাকাMonday , 26 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত পাঁচ লাখ মানুষ

Link Copied!

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন আগে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও নিয়মিত তদারকির অভাবে উপজেলার ৪৮টি ক্লিনিকের কার্যক্রম বর্তমানে একপ্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এসব ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের। ফলে ১২টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ আধুনিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্লিনিকগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ ভবনের অবকাঠামো এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অনেক ক্লিনিকের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, যা বর্ষার দিনে বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বেশ কিছু ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বা জরাজীর্ণতার কারণে ফ্যানসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বেশিরভাগ স্থানে সুপেয় পানি ও শৌচাগারের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সেবাগ্রহীতাদের। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ শিশুদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়, যা তাদের শারীরিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা এই বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ক্লিনিকে গিয়ে সামান্য কিছু সাধারণ ওষুধ ছাড়া চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় সরবরাহ শেষ থাকার অজুহাতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে হয়। এছাড়া জরাজীর্ণ ভবনের ভেতর ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ভয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকতে হয় রোগী ও চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্যকর্মীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ত্রিশালের ৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩২টি ভবনই বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব জীর্ণশীর্ণ ভবন ভেঙে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তালিকা ও চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে সংস্কার বা নতুন নির্মাণের কোনো বরাদ্দ সরাসরি উপজেলা কার্যালয়ে না আসায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। অতি দ্রুত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে গ্রামীণ জনপদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।