ঢাকাSunday , 25 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারি চাকরি: ৯ মাসে আটক, জেল ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীর

Link Copied!

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের পরিবর্তে অংশ নেওয়ার মতো প্রতারণার ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাকরির আবেদন করেন এক ব্যক্তি, অথচ পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হন সম্পূর্ণ অন্য একজন—এমন অভিনব জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে অভিযান চালিয়ে তিন শতাধিক এমন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় মোট ৩১৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ১১৫টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারকদের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এসব প্রতারকদের তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বিচারক নিয়োগের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরীক্ষা জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে। এই একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় ২৪৬ জন ভুয়া প্রার্থীকে আটক করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ১০৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় ৩০ জন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় ২৮ জন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় আটজন ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক হন। এর বাইরে রেলওয়ে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাতেও প্রক্সি দেওয়ার সময় প্রতারক আটকের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এসব অপরাধীকে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় এমন বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এই ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, যা মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

এই ধরনের প্রতারণা রোধে কেবল সংক্ষিপ্ত সাজা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন এবং আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজ মনে করেন, জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আবেদনকারী এবং প্রক্সি দিতে আসা—উভয় পক্ষকেই কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার পাশাপাশি তাদের আজীবন বা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করার কঠোর সুপারিশ করেছেন তারা। পাশাপাশি পরীক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।