শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় নিজ পদে বহাল করার দাবিতে চলা আন্দোলন দীর্ঘ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই আন্দোলনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন ও নানা কর্মসূচির জেরে ক্যাম্পাস কার্যত অচল হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এই অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংকটের জেরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কতৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সেশনজটে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যা তাদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে। পূজার দীর্ঘ ছুটির কারণে ক্যাম্পাস এতদিন কিছুটা ফাঁকা থাকলেও চলমান আন্দোলনের তীব্রতা একটুও কমেনি। শিক্ষার্থীরা তাদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি থেকে সরে আসেননি এবং পূর্বের অবস্থান এখনো বজায় রেখেছেন।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের একাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে তাদের দাবির সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক সুরাহা চান। অন্যদিকে ক্যাম্পাস পুনরায় চালুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই আন্দোলন পরবর্তীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের একাংশেরও সমর্থন পায় যার ফলে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন এবং প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

