ঢাকাSunday , 25 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ রেলওয়ে: রেলে ইঞ্জিন সংকট আরও প্রকট

Link Copied!

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভের তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত সচল ইঞ্জিন না থাকায় শিডি অনুযায়ী নিয়মিত ট্রেন চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে ট্রেন বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লাভজনক খাত হিসেবে পরিচিত পণ্য পরিবহনের ওপরও। রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংকটের কারণে সামগ্রিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং লোকসানের মুখে পড়ছে রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থাটি।

রেলওয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনার তুলনায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিটারগেজ ট্রেন বাতিল ও বিলম্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট তিন মাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইঞ্জিনের তীব্র সংকটের কারণে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি মিটারগেজ ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। শুধু ট্রেন বাতিল নয়, ইঞ্জিন পাওয়ার অপেক্ষায় থেকে শিডিউল বিপর্যয়ের শিকার হওয়া ট্রেনের সংখ্যাও দেড় গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব ঘটছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইঞ্জিন সংকটের এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে হাজার হাজার ট্রেন বাতিল হয়েছে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল—উভয় অঞ্চলেই দৈনন্দিন ভিত্তিতে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ ইঞ্জিনের প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। শুধু ইঞ্জিন কম পাওয়া যাচ্ছে তা নয়, বরং চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিনগুলোর ঘনঘন বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরোনো যন্ত্রাংশ জোড়াতালি দিয়ে ট্রেন সচল রাখার চেষ্টা করায় ইঞ্জিনগুলো মাঝপথে নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং সচল ইঞ্জিনের ওপর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, অতীতে সময়মতো প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমান কর্তৃপক্ষ মেরামতের মাধ্যমে সচল ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিগত বছরগুলোতে রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও লোকোমোটিভ ও কোচের মতো মৌলিক উপাদানের বিষয়টি সঠিকভাবে সমন্বিত হয়নি। সামগ্রিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার এই ঘাটতির কারণে রেলের ইঞ্জিন সংকট দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।