পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সড়কে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনকে। নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরাও। উপজেলার সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.) সেতুর পশ্চিম পাশে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর নিয়মিত বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হয়। কোনো কোনো বাস সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। পাশাপাশি টেম্পো, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। বাস ঘোরানো ও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সড়কের একটি অংশ দখল হয়ে থাকে। এতে একদিকে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাসের ফাঁক দিয়ে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুবিদখালী এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কের ওপরই বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হয়। ব্যস্ত সময়ে একই স্থানে একাধিক যানবাহন দাঁড়িয়ে পড়লে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ফরাজি বলেন, ‘সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণেই এখানে যানজট তৈরি হয়। প্রতিদিন অনেক মানুষ এখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। তাই এ এলাকায় একটি নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড থাকা প্রয়োজন।’ বাসযাত্রীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রীছাউনি না থাকায় তাদের খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি ও রোদে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। সঙ্গে থাকা মালামাল রাখারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। নিরাপদ ও নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড হলে যাত্রীদের এই দুর্ভোগ কমবে বলে মনে করেন তারা। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নাসির হাওলাদার বলেন, ‘প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। বাসের হর্নের শব্দেও আশপাশের মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়।’ স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করা প্রয়োজন। সেখানে যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নিরাপদ স্থান ও প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকলে যানজট ও জনদুর্ভোগ দুই-ই কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, ‘নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’ স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাসড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করবে।

