ঢাকাSunday , 8 November 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমবায় সমিতিগুলোর বেশিরভাগই দুর্বল হয়েছে দুর্নীতির কারণে: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক
November 8, 2026 3:15 pm
Link Copied!

দেশের সমবায় আন্দোলনকে পুনরায় সচল ও শক্তিশালী করতে দুর্নীতি রোধ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ সমবায় সমিতি আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে এসেছে। অথচ এই আন্দোলনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে, যা দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের সমবায় খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ষাটের দশকে সমবায় আন্দোলনের অগ্রপথিক ড. আখতার হামিদ খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যা সেই সময় আন্দোলনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও সমবায় খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় যথাযথ মনোযোগ ও গুরুত্বের অভাবে সেই সোনালী দিনগুলো ম্লান হয়ে গেছে এবং খাতটি তার আগের অবস্থানে নেই।

বর্তমান সময়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমবায় সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য সঠিক উপায়ে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। এই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদপ্তরকে যৌথভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে সমবায়ভিত্তিক বিশেষায়িত কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে সফল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সহায়তা করবে।

সমবায় খাতের বিদ্যমান আইনসমূহ বর্তমান যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য দ্রুত সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। সবশেষে, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সফল সমবায়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।