ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলে আসছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতার মধ্যে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী ঘিরেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় উঠেছে। তবে সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান কেন্দ্রীয় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড শেষ পর্যন্ত কাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবে এ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছে। এর আগে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে তিন নেতা ফরম সংগ্রহ ও জমা দেন। তাঁরা হলেন—মির্জা ফয়সল আমীন, সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। তিনজনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়টি ১৫ সেপ্টেম্বর এবং জমা দেওয়ার তথ্য ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে নম্র চৌধুরীর রাজনৈতিক পরিচিতি ও স্থানীয় পর্যায়ের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ছিল। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি। ফলে তাঁর নামকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছিল। অন্যদিকে মির্জা ফয়সল আমীন দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং এর আগে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র ছিলেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের পর দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিন প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীরা। এখন মোনোনয়ন দৌড়ে কে এগিয়ে তা দেখতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও বাসী। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাতে নম্র চৌধুরীর নামও বেশ আলোচিত রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয় কিনা তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কারও নাম চূড়ান্ত না হওয়ায় উপনির্বাচনের মাঠে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, স্থানীয় ভোটের সমীকরণ, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থান—সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল বা কোনো প্রার্থীর সম্ভাব্য জয়-পরাজয় সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভোটের মাঠে প্রার্থীদের প্রচার, দলীয় কর্মকৌশল ও ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে।

