ঢাকাMonday , 13 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীর ট্রাফিক চলাচল ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা

Link Copied!

trafficনিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আম্মু ওরা কেউ কিছু জানে না। ওই পুলিশটাও কিচ্ছু জানে না। আমার বইতে লেখা আছে লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু এখন লাল বাতি জ্বললে এরা দেখি গাড়ি চালায়!’
হলুদ বাতির শেষে লাল বাতি জ্বলে উঠলো ট্রাফিক সিগনালে। দায়িত্বরত পুলিশ হাত তুলে জানিয়ে দিলেন গাড়ি ছাড়তে। এরই মধ্যে মারুফের গাড়িটিও চলছে। কিন্তু তখনো লালবাতি জ্বলেছে।  অবাক হয়ে অন্যসব গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন মারুফ। সবগুলো গাড়ি লালবাতি জলন্ত অবস্থায় চলছে। এসব দেখে ছোট্ট মারুফ তার আম্মুকে একথাগুলো বলে।
মারুফের এমন প্রশ্নে হতবাক চালক ইলিয়াছ হোসেন। বিষয়টি তিনি ঠিকই বুঝতে পারলেও তার করার কিছুই নেই। কারণ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার অবস্থা তো এমনই।
এমন অবস্থা দেখে মারুফ তার গাড়ির চালককে বলে উঠলো, ‘আংকেল গাড়ি যাবে না। লাল বাতি জ্বলছে। লাল বাতি জ্বললে গাড়ি দাঁড়িয়ে রাখতে হয়।’
শুধু তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া এ শিশু শিক্ষার্থী মারুফ নয়, তার মতো এমন হাজারো শিশুদের প্রশ্ন ট্যাফিক ব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি নিয়ে। তারা সবাই বইপত্র থেকে জানতে পেরেছে লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামাতে হয়। হলুদ বাতি জ্বললে গাড়ির গতি কমিয়ে দিতে হয়। আর সবুজ বাতি জ্বললে গাড়ি চালাতে হয়।
রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেইসঙ্গে অসহনীয় হয়ে উঠেছে যানজট। তাই ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। এসব বিষয়ে চিন্তা করে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা ও যানজট নিরসনে কাউন্ট ডাউন টাইমারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও কিছুতেই এ দুরাবস্থার উন্নতি করা যাচ্ছে না।
ডিসিসি সূত্র জানায়, ট্রাফিক চলাচল ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীর প্রায় ৭০টিরও বেশি সড়ক মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক দিকনির্দেশনাকারী ডিজিটাল পদ্ধতির ‘কাউন্ট ডাউন টাইমার’। প্রতিটি ট্রাফিক সিগন্যাল কত মিনিট স্থায়ী হবে, তা-ই গণনা হয়ে থাকে এই মেশিনে। কিন্তু অতিরিক্ত যানবাহনের নগরী রাজধানী চলে যেন ভিন্ন কোনো সূত্রে। অনেক সময় ১০০ সেকেন্ডের জন্য সিগন্যাল পড়লেও ৬০ সেকেন্ডেই ট্রাফিকের হাতের ইশারায় সিগন্যাল ছেড়ে দেয়া হয়। এতে কোনো কাজেই আসছে না অত্যাধুনিক অতি মূল্যবান এ যন্ত্রটি। এখনও হাত দিয়ে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে রাজধানীর ট্রাফিক পুলিশকে।
রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সময় অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কাউন্ট ডাউন টাইমার মেশিন এবং সিগন্যাল বাতির নির্দেশনা উপেক্ষা করে থাকেন। তখন তারা হাতের ইশারায় গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়। রাজধানীর গাড়ি চালকরা যেমন এসব সিগনাল বাতি মানেন না তেমনি দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছেও উপেক্ষিত এই যন্ত্র বা সিগনালগুলো।
রাজধানীর ফকিরাপুলে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিরাজুল ইসলাম হাত দিয়ে সিগন্যাল ব্যবস্থার পক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘আমরা ঠিকিই জানি কীভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যানবাহনের এ রাজধানীকে এভাবে ছাড়া কোনো রূপেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’
নিয়ম অনুযায়ী সবুজ সঙ্কেত দেখা গেলেই ট্রাফিক পুলিশ যান চলাচলের অনুমতি দেবেন। কিন্তু বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থায় এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে মোড়গুলো পার হতে দীর্ঘক্ষণ যানবাহনকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এজন্য ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমর্থন না করে যানবাহনের অতিরিক্ত সংখ্যাকেই দায়ী করছেন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা।
এছাড়াও এগুলো রক্ষণাবেক্ষণেও কিছুটা অবহেলা রয়েছে। ব্যস্তময় নগরীর রাস্তা সব সময় ব্যস্ত থাকলেও ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি অনেক সময়ই বন্ধ থাকে এবং কাউন্ট ডাউন টাইমার প্রায়ই ঠিকভাবে কাজ করে না।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নভেম্বরে শহরের ৭০টি ব্যস্ততম মোড়ে অত্যাধুনিক ‘কাউন্ট ডাউন টাইমার’ মেশিন স্থাপন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু টাইমার চালু থাকলেও ওই মোড়গুলোয় ট্রাফিক পুলিশকে হাত দিয়েই সিগন্যাল দিতে দেখা যায়।