চাঁদপুর প্রতিনিধি: আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালি জাতির প্রাণের ঐতিহ্য পয়লা বৈশাখ, ১৪২২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বৈশাখের অত্যাবশ্যকীয় অনুসঙ্গ হচ্ছে পান্তা-ইলিশ। তাই আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ হওয়া ইলিশের দাম এখন আকাশছোঁয়া।
বাংলার আনন্দ ও উৎসবের দিন। বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় সর্বজনীন উৎসব। এ দিনে আপন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি আনন্দে মেতে উঠবে।
বর্ষবরণ উৎসব পালনে দেশের সব স্থানের মতো মতলব উত্তর উপজেলায় চলছে নানা আয়োজন। পয়লা বৈশাখে ইলিশের স্বাদ নেয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হয়ে পড়েছে বর্ষবরণের অনিবার্য অনুসঙ্গ। পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন কাপড় চোপর পরে পান্তা-ইলিশ খাওয়া।
নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ পান্তা-ইলিশ। তাই ওই সময়ে ইলিশের অতিরিক্ত চাহিদাকে সামনে রেখে বাজারে জমে উঠেছে ইলিশ-বাণিজ্য। এখন ইলিশের পুরো মৌসুম নয়। চাঁদপুরের মতলবের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনায় চলছে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় অভায়শ্রম কর্মসূচি। কিন্তু ইলিশের চাহিদাকে সামনে রেখে বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ইলিশের পোনা জাটকা।
এছাড়া পান্তা-ইলিশের আয়োজন করার জন্য চৈত্রের মাঝামাঝি সময় থেকে চাঁদপুরের বিভিন্ন হোটেলে এবং মাছ বিক্রেতারা বরফ ও ফ্রিজে মজুদ করে রেখেছে ইলিশ। পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে ইলিশের দাম। ৫-৭ দিনের ব্যবধানে বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ।
ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বাড়ায় এখন বড় আকারের জাটকাকেও ইলিশ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। তা আবার বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
গত রোববার নদী তীরবর্তী আড়তসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে ইলিশের আকাশছোঁয়া দামের চিত্র পাওয়া যায়। ওইসব বাজারে ইলিশ প্রতিকেজি বড় সাইজের ৩ হাজার টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা, মাঝারি (৫০০-৬০০ গ্রাম) ১ হাজার ৫শ থেকৈ ২ হাজার টাকা, ছোট সাইজের প্রতি কেজি ৮শ থেকে ৯শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে পদ্মার ইলিশ বলে দাবি করা প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। আর বাজারে বড় সাইজের মণপ্রতি ১ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের মণপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়।
ইলিশ মোকামের আড়তদাররা জানান, নববর্ষ যতো এগিয়ে আসছে আমদানি ততো কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে মজুদ করার জন্য ইলিশ ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতারা আগাম মাছ কেনার জন্য আড়ত ও বাজারগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এ কারণে ৪-৫ দিন আগেই মাছের মণ ১ লাখ টাকা অতিক্রম করেছে।
তারা জানান, পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে বড় ইলিশ তো দূরের কথা জাটকার চেয়ে একটু বড় মাপের ইলিশেরই দাম এখন চওড়া। দাম বেশি হলেও চাহিদা অনুযায়ী আমরা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছি। মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ইলিশের অভয়াশ্রম। এখানে কোনো প্রকার মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও এবার থেমে নেই জাটকা শিকার।
সাধারণ মানুষ বলছে, যেভাবে ইলিশের দাম বাড়ছে, তাতে এবার পান্তা ইলিশের আয়োজন কঠিন হয়ে পড়ছে। রশিদ নামে এক রিকশাচালকের ক্ষোভ পান্তা ইলিশ কেন, মরিচ পান্তার আয়োজন করলে বাজারে ইলিশের দাম এমন বৃদ্ধি পেত না। ওই রিকশাচালক সবাইকে মরিচ পান্তার আয়োজন করতে আহ্বান জানান।
এদিকে, বাংলা নববর্ষ পালনের নানা আয়োজন চলছে চাঁদপুরে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে মেলাপ্রেমীরা মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

